খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে খনিতে কর্মরত এক বাসে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঘটনার পর স্থানীয় জরুরি পরিষেবা ও পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আহত হয়েছেন আরও সাতজন। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শেমহাল টেলিগ্রামে বলেন, “আজ শত্রুরা দিনিপ্রো অঞ্চলের জ্বালানি খাতের কর্মীদের লক্ষ্য করে নিন্দনীয় হামলা চালিয়েছে। এই সন্ত্রাসী হামলায় ১২ জন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন।”
স্থানীয় পুলিশ জানায়, হামলা তেরনিভস্কা শহরে সংঘটিত হয়েছে। হামলার পরে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, একটি পোড়া বাস সড়কের পাশে উল্টে পড়ে আছে। ড্রোন হামলায় বাসটির ভেতরে থাকা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ডিটিইকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হতাহত ব্যক্তিরা তাদের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কর্মী ছিলেন। হামলার সময় তারা সকলেই কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসে ফিরছিলেন।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্য একটি এলাকায়, রোববার দিনের শুরুতে জাপোরিঝিয়ায় রাশিয়ার হামলায় কমপক্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। এতে একটি মাতৃসদন ও একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় কয়েকজন রয়েছেন এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলো তাদের চিকিৎসা দিয়ে চলেছে।
এই হামলার খবর আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “এ ধরনের হামলা আলোচনার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে না। আমরা আমাদের জনগণ ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নিচের টেবিলে হামলার সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
| স্থান | হামলার ধরন | নিহত | আহত | লক্ষ্যবস্তু | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|---|
| তেরনিভস্কা, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক | ড্রোন হামলা | ১২ | ৭ | খনিতে কর্মরত বাসের কর্মী | বাস পোড়ে উল্টে পড়েছে |
| জাপোরিঝিয়া | রকেট/ড্রোন হামলা | ০ | ৯ | মাতৃসদন ও আবাসিক ভবন | স্থানীয় হাসপাতালগুলো আহতদের চিকিৎসা দিচ্ছে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরণের হামলা ইউক্রেনে সিভিলিয়ান এবং কর্মীদের নিরাপত্তার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হামলার অবিলম্বে তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এতে স্পষ্ট যে, রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ ও জ্বালানি খাতের কর্মীরা ঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে সামরিক ও কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া শান্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।