খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৮ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সরকার কাগজে-কলমে পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৯ টাকা কমিয়ে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘোষণার দিন থেকেই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও রাজধানীর বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। বরং কোথাও কোথাও লিটারপ্রতি ২-৩ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
গত ১৩ এপ্রিল সরকার খোলা পাম তেলের দাম ১৬৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল। পরে ১২ আগস্ট নতুন ঘোষণায় সেটি কমিয়ে ১৫০ টাকা করা হয়। তবে সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজারে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো এখনো কিনছে লিটারপ্রতি ১৭০ টাকায়, খুচরা ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে ১৭৫-১৮০ টাকা। মানিকনগরে খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬২-১৬৪ টাকায়। দরদাম করলে এক-দুই টাকা কমানো গেলেও ঘোষিত দামের সঙ্গে বাস্তবের ব্যবধান ১০-১৫ টাকা।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অজুহাত, তারা পাইকারিতে কম দামে তেল পাননি। মানিকনগরের হাজি স্টোরের মো. রাব্বি জানান, এক সপ্তাহ আগে ১৫৭ টাকায় কিনেছেন, এখন পাইকারিতে ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। সেগুনবাগিচার মহিন স্টোরের মামুন হোসাইন বলেন, সরকার তো সরাসরি তেল বিক্রি করে না, পাইকাররা দাম কমাননি।
পাইকারদের অবস্থাও একই। মৌলভীবাজারে ডিলাররা লিটারপ্রতি ১৪৪ টাকার নিচে নামেননি। সমিতির সভাপতি হাজি গোলাম মাওলা বলেন, দাম কমানোর কোনো সার্কুলার পাননি। কম দামে কিনতে না পারলে কম দামে বিক্রি করাও সম্ভব নয়। তবে সরবরাহে সংকট নেই।
বাজারে ঘোষণার প্রভাব পড়েনি—এ ব্যাপারে সরকারও অজ্ঞাত। বাণিজ্যসচিব মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই দাম কমানো হয়েছে। তাই মানার কথা। সচিব বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন খুচরায় পাম তেলের দাম ১৮ শতাংশ বেশি। গত বছর এ সময়ে লিটারপ্রতি দাম ছিল ১২৫-১৪০ টাকা, বর্তমানে তা ১৬২ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ ঘোষণার পর কাগজে দাম কমলেও বাস্তবে ভোক্তার খরচ বেড়েছে।
সরকার দাবি করছে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতন হয়েছে। তবে ট্রেড ইকোনমির তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি টন পাম তেলের দাম ছিল ৩৭১১ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, যা এ বছরের আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫১৭ রিঙ্গিতে। অর্থাৎ দাম কমেনি, বরং বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার বাজারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সময়ে দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছিল, তখন দেশীয় বাজারে কমানো হয়নি। আর যখন উল্টো দাম বাড়ছে, তখন কমানোর ঘোষণা এসেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা মানছেন না, এতে ভোক্তার বোঝা আরও বেড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের মতো কার্যকর নজরদারি নেই। ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে সরকারের ঘোষণাগুলো কাগজে আটকে থাকে, ভোক্তার কাছে পৌঁছায় না। ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেন, দাম বাড়ানোর ঘোষণা এলে হুট করেই বাড়ে, কিন্তু কমানোর ঘোষণা কার্যকর হয় না। এটি নিছক আইওয়াশ।
ফলে ভোক্তাদের লিটারপ্রতি ১৫-২০ টাকা বাড়তি দিতে হচ্ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁর কেনা তেলের দামও বেড়ে যাওয়ায় খাবারের দামে তার প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, সরকারের ঘোষণা কেবল কাগুজে প্রচারণা ছাড়া কিছু নয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন