খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি মন্তব্য প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, “আমাদের সেনাবাহিনী কখন জনগণের মাথায় অস্ত্র ধরেছে? নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কি এটি প্রমাণ করতে পারবেন?” বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক বাহিনীতে অনেক কিছু থাকতে পারে, অতীতে অনেক কিছু ঘটেছে। কিন্তু একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো বাহিনী বা পুরো রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। রাজনীতিবিদদের মধ্যে যেমন অনেক খারাপ দিক রয়েছে, তেমনি অনেকে সমাজে ভালো ভূমিকা রাখছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যেহেতু রাজনীতি করেন, তাই তার কর্মপদ্ধতি দিয়েই মানুষকে বিচার করতে হবে।
মাসুদ কামাল বলেন, “আমি যদি ২০২৫ সালে এসে বলি সেনাবাহিনী জনগণের মাথায় অস্ত্র ধরে, এটা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।” তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেনাবাহিনী জনগণের দিকে অস্ত্র তাক না করায় শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার সুফল নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো নেতারাও পেয়েছেন। এখন উনি উল্টো সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসঙ্গত।
সেনাপ্রধানের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেনাপ্রধান অফিসার্স অ্যাড্রেসে যে কথাগুলো বলেছেন তা ব্যক্তিগতভাবে আমার ভালো লাগেনি। কারণ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পুরো সেনাবাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তাদের মাথায় কোনো ঘিলু নেই। এতে একজন সোলজারও কষ্ট পেতে পারে। সেনাপ্রধানের উচিত ছিল সরাসরি প্রতিবাদ জানানো এবং বলা যে এটি ঠিক হয়নি।”
এনসিপির প্রতিষ্ঠা নিয়ে তিনি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস এনসিপি গঠন করেছেন। তিনি এই দলের পিতা। তাঁর প্রত্যাশা ছিল দলটি তাঁকে একটি জায়গায় নিয়ে যাবে। তবে নেতাদের বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন এনসিপি তাঁর সেফ এক্সিট হবে, কিন্তু পরে বিএনপির সঙ্গে নিজেকে বেশি ঘনিষ্ঠ করে তুলেছেন। এরপর লন্ডনে একটি মিটিং হয়, যা সরকারের উদ্যোগে হয়েছিল, বিএনপির নয়। এখানেই এনসিপি তাদের অবস্থান হারায়।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন নিয়ে মাসুদ কামাল বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচন হওয়া খুবই ইতিবাচক বিষয়। এতে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিযোগিতা থাকবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের বিরোধ হয়নি, বরং সম্মান দেখানোর মতো কৌশল দেখা যাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচন প্রমাণ করে যে নেতারা সাধারণ ছাত্রদের কাছে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এখনই উপযুক্ত সময় এ নির্বাচনের। আমি মনে করি নির্বাচন যেটাই হোক-ছাত্র, স্থানীয় সরকার বা জাতীয় সংসদ-সেটা দেশের জন্য ভালো। সঠিক নির্বাচন হলে নেতারা জনগণের কাছে যেতে বাধ্য হবেন। শেখ হাসিনা যেমন ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে একটি পদ্ধতি তৈরি করেছিলেন যাতে জনগণের কাছে যেতে না হয়, ফলে পরবর্তী নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন