খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে ম্যাচ পাতানো ঠেকাতে নজরদারি ও আইনগত প্রয়োগ জোরদার হওয়ায় ২০২৫ সালে সামগ্রিকভাবে কিছুটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ক্রীড়া তথ্য বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টরাডারের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘ইন্টেগ্রিটি ইন অ্যাকশন ২০২৫: গ্লোবাল অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ট্রেন্ডস’ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় সন্দেহজনক পাতানো ম্যাচের হার প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। বিশ্বজুড়ে ৭০টি খেলায় প্রায় ১০ লাখ ক্রীড়া ইভেন্ট পর্যবেক্ষণ করে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১,১১৬টি ম্যাচকে সন্দেহজনক হিসেবে শনাক্ত করেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৩২৬টি ম্যাচে একটি করে ম্যাচে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্পোর্টরাডার জানিয়েছে, উন্নত ডেটা বিশ্লেষণ প্রযুক্তি, বেটিং প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় এবং খেলোয়াড়-অফিশিয়ালদের সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচির ফলেই সামগ্রিক ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত ক্রীড়া ইভেন্টের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি কার্যকর নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। কনমেবল, উয়েফা ও ফিফার মতো শীর্ষ সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব থাকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময়ও আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে।
মহাদেশভিত্তিক চিত্রে ইউরোপে সন্দেহজনক ম্যাচের সংখ্যা এখনও বেশি থাকলেও প্রবণতা ইতিবাচক। ২০২৪ সালে যেখানে সংখ্যা ছিল ৪৫১টি, ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ৩৮৫-এ। দক্ষিণ আমেরিকায়ও ৬৪টি কমে উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় উল্টো চিত্র দেখা গেছে—এই অঞ্চলগুলোতে যথাক্রমে ৩৬, ৪৩ ও ৪১টি করে সন্দেহজনক ম্যাচ বেড়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকায় ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৃদ্ধি প্রায় ৯২ শতাংশ হওয়ায় বিষয়টি উদ্বেগজনক।
খেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে ফুটবলই এখনও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০২৫ সালে ফুটবলে ৬১৮টি ম্যাচে পাতানোর সন্দেহ ধরা পড়েছে, যা ২০২৪ সালের ৭৩০টির তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। তবে তবুও ফুটবলের এই সংখ্যা বাস্কেটবলের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। ফুটবলের মোট সন্দেহজনক ম্যাচের অংশীদারত্বও ২০২৪ সালের ৬৫ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৫৫ শতাংশে নেমেছে—যা আংশিক স্বস্তির খবর।
| খেলা | সন্দেহজনক ম্যাচ |
|---|---|
| ফুটবল | ৬১৮টি |
| বাস্কেটবল | ২৩৩টি |
| টেনিস | ৭৮টি |
| টেবিল টেনিস | ৬৫টি |
| ক্রিকেট | ৫৯টি |
ক্রিকেটে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে সন্দেহজনক ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯টিতে, যা আগের যেকোনো বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ২০২৪ সালে ছিল ১৬টি, তার আগে ২০২৩ ও ২০২২ সালে ১৩টি করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগ ও ম্যাচের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় ঝুঁকিও বেড়েছে। ক্রিকেটে সন্দেহজনক ঘটনার প্রায় ৬৯ শতাংশই এশিয়ার ছয়টি দেশে কেন্দ্রীভূত। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ১৭ শতাংশ এবং ইউরোপে ১২ শতাংশ ম্যাচ শনাক্ত হয়েছে। এখানে ম্যাচের ফল বদলের চেয়ে ‘স্পট ফিক্সিং’-এর প্রবণতাই বেশি—মোট সন্দেহজনক ঘটনার ৯১ শতাংশ।
স্পোর্টরাডারের ইন্টেগ্রিটি সার্ভিসের নির্বাহী সহসভাপতি আন্দ্রিয়াস ক্র্যান্নিচ সতর্ক করে বলেন, “ম্যাচ ফিক্সিং একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি। দুর্নীতিবাজদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে হলে প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ অপরিহার্য।” সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের প্রতিবেদন দেখাচ্ছে—অগ্রগতি আছে, তবে লড়াই এখনও অনেক দূরের পথ।