খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনের অধিকাংশ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হয়েছে বিএনপি। দলটি জানিয়েছে, তারা যেসব সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে একমত, আংশিক একমত কিংবা দ্বিমত পোষণ করেছে, তার বিস্তারিত অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে।
শনিবার (৫ এপ্রিল) বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি প্রচারধর্মী পোস্ট প্রকাশ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার সংক্রান্ত ২০টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টিতেই বিএনপি একমত বা আংশিকভাবে একমত। বিচার বিভাগের সংস্কার প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৮৭ শতাংশে বিএনপির পূর্ণ বা নীতিগত সমর্থন রয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের মধ্যে ৫৪ শতাংশে দলটির ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগসহ ৫৬ শতাংশ প্রস্তাবে দলটি একমত। সংবিধান সংস্কার কমিশনের উচ্চাভিলাষী, পরীক্ষামূলক বা নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন প্রস্তাবগুলোর বিরুদ্ধেও দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাস্তবমুখী ও দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি দলটি দৃঢ় সমর্থন রাখে। তবে যেসব প্রস্তাব উচ্চাভিলাষী, অপ্রয়োগযোগ্য বা নাগরিক সেবা বিঘ্নিত করতে পারে—সেসব বিষয়ে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিচার বিভাগ সংস্কারের ২৩টি সুপারিশের মধ্যে ২০টিতে বিএনপি একমত হয়েছে। জনপ্রশাসন সংস্কারের ২৬টি সুপারিশের অধিকাংশে দলটির ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সংসদে দুইজন ডেপুটি স্পিকারের একজন বিরোধী দল থেকে মনোনীত করার প্রস্তাবেও বিএনপি সমর্থন জানিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘বিএনপি আরও দুই বছর আগেই সংস্কার পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও একাধিকবার গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নৈতিকভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—রাষ্ট্রের কল্যাণে গঠনমূলক সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।’
এই অনলাইন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের সংস্কারকেন্দ্রিক অবস্থান স্পষ্ট করছে এবং জনগণকে এর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
খবরওয়ালা/আরডি