খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এসব আসনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁদের অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। তবে এরই মধ্যে ওই আসনগুলোর বেশির ভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এসব আসনের মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের পছন্দের আসনও রয়েছে।
এনসিপি নেতাদের তথ্যমতে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা–১১ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর–৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পছন্দের আসন ঢাকা–১৮ বা চাঁদপুর–৫। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা–১৪ এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ঢাকা–৯ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়–১ আসন থেকে এবং দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা–৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী–৬ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। সেখানে এনসিপির আলোচিত নেতাদের পছন্দের আসনের মধ্যে শুধু ঢাকা–৯ ও ঢাকা–১৮ আসন ছাড়া সবগুলোতেই প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। তবে এই দুটি আসন এনসিপির প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এনসিপির আরও অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মনিরা শারমিন (নওগাঁ–৫), সারোয়ার তুষার (নরসিংদী–২), আতিক মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম–২), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ–৪), এস এম সাইফ মোস্তাফিজ (সিরাজগঞ্জ–৬), আশরাফ উদ্দীন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২) ও জয়নাল আবেদীন (কুমিল্লা–১০)।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ছাত্র প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁরা সরাসরি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তাঁদের প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে আসিফ মাহমুদ সরকার থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা–১০ আসনে নির্বাচন করতে পারেন। এটি এনসিপির মনোনয়নে বা স্বতন্ত্রভাবেও হতে পারে। অন্যদিকে, বিএনপির সঙ্গে বোঝাপড়া হলে মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর–১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
বিএনপি ঢাকা–১০ ও লক্ষ্মীপুর–১ আসন ফাঁকা রেখেছে, তবে এই দুটি আসন উপদেষ্টা মাহফুজ ও আসিফের জন্য কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর–১ আসনে বিএনপি তাদের সহযোগী বাংলাদেশ এলডিপির প্রার্থী শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সবুজ সংকেত দিয়েছে।
জানতে চাইলে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “জাতীয় স্বার্থে অবস্থানগত ঐক্য হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী যেকোনো দলের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা হতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এনসিপি নিজস্ব প্রার্থী তালিকা তৈরি করছে, যা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন