খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শিল্পনগরী গাজীপুরে বেকারত্বের কারণে নতুন এক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। নতুন বেকার শ্রমিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। পুলিশ জানায়, গত ছয় মাসে গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে এক হাজার ৬০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার অর্ধেকই গার্মেন্ট ও অন্যান্য কারখানা বন্ধ হয়ে বেকার হয়ে পড়া শ্রমিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকারত্বের সমস্যা সমাধান, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করলেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) জানিয়েছে, অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বড় ভূমিকা রয়েছে।
গত এক বছরে গাজীপুরে ৭২টি কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৭৩ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেকেই কাজ না পেয়ে পেশা বদলে অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছেন। কল-কারখানা ও পরিদর্শন অধিদপ্তর ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে গত ২৯ জুলাই পর্যন্ত গাজীপুরে ৭২টি কল-কারখানা বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে বড় বড় ২০টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
জিএমপি কমিশনার নাজমুল করিম খান বলেছেন, “বেকার শ্রমিকদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি, তবে পুলিশের একার পক্ষে তা সম্ভব নয়, জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পুলিশ বলেছে, লোকবল ও সরঞ্জাম কম হওয়ায় অপরাধ দমন কার্যক্রমে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘বেকারদের আয়ের সুযোগ সৃষ্টি না করলে অপরাধ বৃদ্ধি পাবে।’
অপরাধের সঙ্গে মাদক ব্যবসার সম্পর্কও বাড়ছে। গাজীপুর মহানগরের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিন জানান, মাদকাসক্ত ও টোকাই গ্রুপ এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করছে, যার পেছনে স্থানীয় রাজনীতিকরাও জড়িত। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেক গাজীপুরবাসী ঢাকায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও আসামিরা শাস্তি না পাওয়ায় অপরাধীদের সাহস বাড়ছে। ২০১৯ সালে লিয়াকত হোসেন নামে এক যুবককে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়; মামলার ফলাফল এখনও অনিশ্চিত।
গাজীপুরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাসমান জনগোষ্ঠী বসবাস করে, যেখানে পুলিশ সদস্য কম হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে গাজীপুরে ১০৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, ‘অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে জটিল সামাজিক সমস্যা রয়েছে, যা শুধু পুলিশি তৎপরতায় মিটবে না, সমাজের সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড