খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
ছোট পর্দার পরিচিত মুখ কাজী নওশাবা আহমেদ। অভিনয় দিয়ে অনেক আগেই দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। নাটক, ওটিটি—সব মাধ্যমে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন। তার অভিনীত নতুন ওয়েব সিরিজ ‘কানাগলি’ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) মুক্তি পেয়েছে বঙ্গ বিডিতে। সিরিজটি নির্মাণ করেছেন আহমেদ জিহাদ।
এই সিরিজে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নওশাবা। পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এসব নিয়ে কথা বলেছেন সুদীপ কুমার দীপের সঙ্গে।
দুই বছর আগের কথা। নির্মাতা আহমেদ জিহাদ ফোনে নওশাবাকে জানালেন, একটি সিরিজ নির্মাণ করবেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে নওশাবাকে চান তিনি। চরিত্রটা নেগেটিভ আবার একটা সময়ে এসে পজিটিভও। একই চরিত্রে ভালো-খারাপ দিক থাকায় কৌতূহলী হলেন নওশাবা। চিত্রগ্রাহক ফরহাদ হোসেন নওশাবাকে বললেন, ‘চরিত্রটার দৈর্ঘ্য হয়তো অনেক বড় নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ। আপনাকে লাগবেই।’ নির্মাতা ও চিত্রগ্রাহকের কথায় রাজি হলেন নওশাবা। বলেন, ‘দুই বছর পর সিরিজটি আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।’

১১ মাস কাজ নেই
গত বছর নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ ষ’ করেছিলেন। এরপর কেটে গেছে ১১ মাস। এই সময়ে নতুন কোনো শুটিং করেননি। ডাকও পড়েনি! কেন? ‘আমিও তো জিজ্ঞেস করি, কেন? আমাকে ডাকা হয় না কেন? আমার কাজগুলো কি নির্মাতাদের চোখে পড়ে না? নাকি এখনো পরীক্ষা দিতে হবে! অবশ্য পরীক্ষা দিতে রাজি আমি। অডিশন দিতেও রাজি। তার আগে ডাকটা তো পেতে হবে!’—বললেন নওশাবা।
নওশাবার মতে জুলাই বিপ্লবের আগে যা ছিল এখনো তাই আছে। সেই সিন্ডিকেট। এখনো ভাঙেনি তাদের কার্যক্রম। তিনি বলেন, ‘আমি কি দ্বারে দ্বারে গিয়ে কেন্দে কেন্দে বলব, আমাকে কাজ দেন, আমাকে কাজ দেন! একজন রানিং অভিনেতার যখন ১১ মাস কাজ থাকে না তার অবস্থা কী হয় একবার ভাবুন। এই যে হঠাৎ হঠাৎ তারকাদের মৃত্যুর খবর শুনছেন, এগুলো কিন্তু অবসাদের ফল। কেউ অনেক কাজ করছে, শিডিউলই মেলাতে পারছে না আর কারো কারো শিডিউলের খাতা খালি পড়ে আছে। এই সমন্বয়হীনতা ঠিক না।’

শিল্পীদের কল্যাণে
জুলাই বিপ্লবের পর নতুন করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট বোর্ড। সেই বোর্ডের সদস্য করা হয় নওশাবাকে। বোর্ডটির বর্তমান কার্যক্রম কী? নওশাবা বলেন, ‘আপাতত আপডেট নেই আমার কাছে। বোর্ডটিতে অনেক উপকমিটি আছে। ফলে যেকোনো কার্যক্রম গ্রহণ করতে সময় লাগে। তবে চেষ্টার ত্রুটি নেই। গুছিয়ে আনার চেষ্টা করছি। শিল্পীদের কল্যাণে কিছু তো করতে হবে।’
ছবি দেখছেন নিয়মিত
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডেরও সদস্য তিনি। নিয়মিত ছবি দেখতে হয়। ৩০ জুন দুটি ছবি দেখেছেন—‘সুপারম্যান’ ও ‘কারাতে কিড’। তবে ঈদের পর কোনো বাংলা ছবি এখনো দেখা হয়নি। নওশাবা বলেন, ‘দুই ঈদে অনেকগুলো বাংলা ছবি দেখেছি। এখন বোর্ডে আর কোনো নতুন ছবি জমা পড়েনি। ফলে দেখাও হচ্ছে না। টানা দুই সপ্তাহ আমরা ইংরেজি ছবিই দেখছি।’

শিল্পীর খোঁজে
নওশাবার নাট্যদল ‘টুগেদার উই ক্যান’ নতুন নাটক মঞ্চস্থ করবে ৮ আগস্ট। তার নির্দেশনায় নাটকটিতে অভিনয় করবে সারা বাংলাদেশের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু মানুষ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এই সব শিল্পীদের খুঁজে বেরও করবেন নওশাবা এবং সেটা আজ থেকেই। বলেন, ‘কাজটা কঠিন হলেও আনন্দের সঙ্গে করছি। আমি আসলে এই সব মানুষের মুখে হাসি দেখতে চাই। যে নাটকটি নির্দেশনা দেব সেখানেও থাকবে বাঙালির ফেলে আসা ইতিহাস। থাকবে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি থেকে শুরু করে ৫২, ৭১, ৯০ এবং গত বছরের জুলাই অভ্যুত্থান। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে।’
খবরওয়ালা/এসআর