খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা রিপোর্ট: বাংলা এাকাডেমির অমর একুশের বইমেলায় গতকাল শুক্রবার ছিল প্রথম শিশু প্রহর। মেলা শুরু হয়েছিল পূর্ব ঘোষণা অনুসারে বেলা ১১টা থেকে। শিশু প্রহর ছিল দুপুর একটা পর্যন্ত। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কারণে শিশু প্রহর থাকবে না। মেলা শুরু হবে দুপুর দুই টা থেকে। তবে শিশু-কিশোরদের সংগীত প্রতিযোগিতা শুরু হবে সকাল সাড়ে নয়টায়।
মেলা শুরু হওয়ার আগে থেকেই শিশু-কিশোরেরা তাদের অভিভাবকদের নিয়ে একাডেমিতে আসতে শুরু করে। কাল সকাল থেকেই শুরু হয়েছে একাডেমির আয়োজনে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা মেলার পরিবেশ সকলে মুখর হয়েছিল শিশুকিশোরদের সমাগমে। আর দুপুরের পর থেকে শুরু হয় নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অগণিত মানুষের স্রোত। সন্ধ্যার আগেই মেলার মাঠ জনসমুদ্র হয়ে ওঠে। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছ ১৮৪টি।
সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল সকাল সাড়ে আটটায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা দিয়ে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের অধ্যাপক ড.আবদুস সাত্তার।বয়সভিত্তিক তিনটি বিভাগে সর্বমোট ৭৫০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
এরপর সকাল দশটায় একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার প্রাথমিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বমোট ৪৩৩ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. তারিক মনজুর, অধ্যাপক শায়লা আহমেদ এবং বাচিকশিল্পী শফিকুর রহমান বাহার।
শিশু-কিশোরেরা তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে স্টলে স্টলে ঘুরে বই বাছাই করছিল। দেখা হলো ইসলামপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী মো.মনির হোসেনের সঙ্গে। তিনি দুই কন্যা তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া আফরিন আক্তার ও প্রাক-প্রাথমিকের আরিফা জান্নাতকে নিয়ে এসেছিলেন। ময়ূরপঙ্খি’র স্টল থেকে ছোট মেয়ে কিনেছে ইংরেজি ও বাংলা শব্দ শেখার ছবি আঁকা বই। বড় মেয়ে তখনো বই বাছাই করতে পারেনি। তবে তার উৎসাহের শেষ নেই। দুই বোন জানাল খুব আনন্দ পেয়েছে মেলায় এসে। প্রকাশক মিতিয়া ওসমান বললেন বিক্রি ভালোই।
আলোচনা অনুষ্ঠান
বিকেল চারটায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘সাংস্কৃতিক ইতিহাসের দর্পণে গোলাম মুরশিদ পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সামজীর আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন স্বরোচিষ সরকার এবং গাজী মো. মাহবুব মুর্শিদ। সভাপতিত্ব করেন মোরশেদ শফিউল হাসান।
প্রাবন্ধিক বলেন, গোলাম মুরশিদের ইতিহাসভিত্তিক আলোচনা বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস-চর্চায় পথিকৃৎ সমতুল্য। বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ইতিহাস প্রাতিষ্ঠানিকতা পেলে গোলাম মুরশিদ হবেন তার পুরোধা ব্যক্তি। তাঁর ইতিহাস-চর্চার প্রধানতম বৈশিষ্ট্যগুলো হলো উপেক্ষিতের প্রতি নজর, আন্তঃশৃঙ্খলাধর্মীতা এবং ব্যক্তিকে ইতিহাসের কর্তাসত্তায় অধিষ্ঠিত করা। বাংলাদেশে প্রথাগত ইতিহাস-চর্চায় তাঁর নাম যতটা উজ্জ্বল, এর চেয়ে সাংস্কৃতিক ইতিহাসে তিনি দারুণ শক্তিমান। বাংলা সাহিত্যের প্রত্যক্ষ ইতিহাস না লিখলেও তাঁর ইতিহাস-চর্চা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে।
আলোচকেরা বলেন, গোলাম মুরশিদের গবেষণা ও লেখালেখির জগৎ ছিল বিস্তৃত এবং বৈচিত্র্যময়। তিনি ছিলেন গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং প্রজ্ঞাময় একজন গবেষক। অত্যন্ত নির্মোহভাবে তিনি ইতিহাসকে দেখার চেষ্টা করেছেন। সাহিত্য বিশ্লেষণ করে ইতিহাস ও জীবনী অনুসন্ধানে আত্মনিয়োগ করেছিলেন গোলাম মুরশিদ। সমাজ-ভাষাবিজ্ঞানের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ইতিহাস চর্চা ছাড়াও অভিধান চর্চার দিক থেকেও গোলাম মুরশিদ উজ্জ্বলতম নাম হয়ে থাকবেন।
সভাপতির বক্তব্যে মোরশেদ শফিউল হাসান বলেন, বৈচিত্র্যসন্ধানী, গভীরস্পর্শী ও পরিশ্রমী গবেষক গোলাম মুরশিদ বাংলাদেশের গবেষণা জগতে শ্রেষ্ঠ গবেষকদের একজন। বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি আমাদের ও ভবিষ্যৎ গবেষকদের জন্য বাতিঘর হয়ে থাকবেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি মোসা. ইসমত আরা এবং কবি মুহাম্মদ ইসমাইল। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী আরিফুল হাসান এবং আফরোজা পারভীন। আজ ছিল মো. ফরিদুল হকের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘মাটির সুর সংগীত পরিষদ’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী জি এম জাকির হোসেন, তানজিনা করিম স্বরলিপি, মাকসুদুর রহমান মোহিত খান, চম্পা বণিক, মুর্শিদা নাহিদ এবং শাহনাজ রহমান স্বীকৃতি।
জুলাইয়ের গল্পমঞ্চ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহিদ স্মরণে গতকালের অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। সঞ্চালানায় ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক জুবায়ের ইবনে কামাল।
এ ছাড়া লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি ও কথাসাহিত্যিক ইকতিজা আহসান ও কবি মৃদুল মাহবুব। #
খবরওয়ালা/এমবি