খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাতিসা বালিকা বিদ্যালয়ের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন একটি মঠ আদলের মন্দির। স্থানীয়দের কাছে এটি মঠ নামেই পরিচিত। একসময় পূজারিদের ভিড়ে মুখরিত থাকলেও এখন অযত্ন-অবহেলায় পরগাছার দখলে প্রায় বিলুপ্তির পথে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে মন্দিরটির ইট-সুরকির দেয়ালে জন্মানো পরগাছা এখন বিশাল গাছে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র শেকড়ের জটলায় ঢাকা পড়ে গেছে দেয়াল। দূর থেকে এটি যে একটি মন্দির—তা বোঝাই কঠিন। ভাঙাচোরা দেয়াল থেকে খসে পড়েছে অসংখ্য ইট, আর শত বছরের পুরনো দেয়ালের শৈল্পিক নকশাগুলো হারিয়ে গেছে কালের গহ্বরে।
মন্দিরটির চূড়ার ভাঙা অংশে বাসা বেঁধেছে পেঁচা। ভেতরের অন্ধকার জায়গা দখল করেছে চামচিকা, বাদুড়, ইঁদুর ও বিভিন্ন পোকামাকড়। আশপাশের এলাকা বহু আগেই দখল হয়ে গেছে। এমনকি মন্দিরের দেয়ালঘেঁষে সম্প্রতি নতুন টিনের ঘরও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মন্দিরের দক্ষিণ দিকে ছোট একটি লোহার দরজা ছিল, যা চুরি হয়ে গেছে। ভেতরে থাকা কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গটিও প্রায় ২০-২৫ বছর আগে রাতে চুরি হয়ে যায়।
শতবর্ষী অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা নারায়ণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রায় ২০০ বছর আগে এই মন্দিরে শিবপূজা হতো। পূজার সময় মেলাতে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকত।’
ডা. রথিন ভট্টাচার্য বলেন, ‘অনুমান করা হয় এ অঞ্চলে রাজা গোবিন্দ মানিক্যের শাসনামলে মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। তখন এ এলাকায় মুসলিম বসতি গড়ে ওঠেনি। তিনি জানান, একসময় শুধু তাদের গ্রামেই ১৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতো। দাদুর কাছ থেকে শোনা কথানুযায়ী এই মন্দিরটির বয়স প্রায় ২০০ বছর। মঠের আদলে নির্মিত এই মন্দিরে মূলত শিবপূজা করা হতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ বিভক্তির পর এ অঞ্চল থেকে অধিকাংশ হিন্দু পরিবার ভারতে চলে যায়। এরপর থেকেই অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকতে থাকতে মন্দিরটি ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায়। দীর্ঘদিনেও এর কোনো সংস্কার বা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা বাবু প্রমোদ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘স্থানীয় সনাতন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব শেষ করে চৌদ্দগ্রামের বাতিসার ঐতিহাসিক এ মঠ আদলের মন্দিরটিকে সংস্কারের জন্য আবেদন করা হবে।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সেক্রেটারি আশীষ সিংহ বলেন, ‘সংস্কার ও সংরক্ষণের অভাবে চৌদ্দগ্রামের সব কয়েকটি প্রাচীন মঠ ও মন্দির ধ্বংসের পথে। সরকারের কাছে আবেদন যেন এই প্রাচীন স্থাপনাগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।’
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী কেউ যদি আসে অথবা আবেদন করে তাহলে আমরা এটি সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেব।’
খবরওয়ালা/শরিফ