বিশ্বজুড়ে যখন বিটিএসের উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের সংগীত জগতের মধ্যে এক অনন্য মেলবন্ধনের আভাস দেখা দিয়েছে। বিটিএসের তারকা জংকুক এবং ভারতের জনপ্রিয় গায়ক অরিজিত সিং-এর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে ভক্তদের মধ্যে নতুন এক জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে—দুই তারকা কি শিগগিরই যৌথ কোনো গান প্রকাশ করতে চলেছেন?
সম্প্রতি জংকুক নিজেই ইনস্টাগ্রামে অরিজিত সিং-এর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোতে তাদের দুজনকে দেখা যায় একসঙ্গে খাবার খেতে, আড্ডা দিতে এবং স্টুডিওতে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে কাজ করতে। ক্যাপশনে জংকুক লিখেছেন, “আমি এটি কিছুদিন গোপন রাখতে চেয়েছিলাম… নিঃশব্দেই ভারতে এসেছিলাম। কোনো শোয়ের জন্য নয়—শুধুমাত্র সংগীতের প্রয়োজনে।”
জংকুক আরও জানিয়েছেন যে, তারা একসঙ্গে পুরনো স্মৃতি ভাগ করেছেন এবং বিশেষ কিছু সৃষ্টি করেছেন। এই তথ্য থেকে অনুমান করা যাচ্ছে, শিগগিরই বিশ্বজুড়ে এই দুই তারকার নতুন কোনো কাজ প্রকাশিত হতে পারে।
এই সময়ে বিটিএস নিজেদের পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘আরিরাং’ নিয়ে ফিরে এসেছে। ২০ মার্চ মুক্তি পাওয়া এই অ্যালবামটি প্রথম দিনেই ৩.৯৮ মিলিয়ন কপি বিক্রি করে কে-পপ ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙেছে। অ্যালবামের ‘সুইম’ শিরোনামের গানটি ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি সহ ৯০টিরও বেশি দেশের আইটিউনস চার্টের শীর্ষে অবস্থান করছে।
বিটিএস-এর ‘আরিরাং’ অ্যালবামের বিক্রির সংক্ষিপ্ত তথ্য
| অ্যালবাম নাম |
মুক্তির তারিখ |
প্রথমদিন বিক্রির কপি |
রেকর্ড |
| আরিরাং |
২০ মার্চ ২০২৬ |
৩.৯৮ মিলিয়ন |
কে-পপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রথমদিন বিক্রি |
| সুইম (সিঙ্গেল) |
২০ মার্চ ২০২৬ |
চার্ট টপার |
৯০+ দেশের আইটিউনস শীর্ষে |
এর আগে জংকুক আন্তর্জাতিক তারকা এড শিরানের সঙ্গে কাজ করেছেন। কিন্তু অরিজিত সিং-এর সঙ্গে সম্ভাব্য এই যৌথ প্রজেক্টটি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত শিল্পের জন্য একটি বৈপ্লবিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অরিজিতের গভীর, দরদী কণ্ঠ এবং জংকুকের গ্লোবাল পপ ইমেজের মেলবন্ধন শুনতে ভক্তরা উভয় দেশ থেকে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন। দুই দেশের ভক্তরা এখন এক প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সংগীত সম্ভাবনার জন্য চাতক পাখির মতো আকাঙ্ক্ষায় দিন গুনছেন।
এই মিলন কেবল দুটি দেশের সংগীত জগতকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে এশিয়া-ভিত্তিক সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। অরিজিত-জংকুক যুগলবন্দী কাজটি প্রকাশিত হলে তা কে-পপ ও বলিউড ভক্তদের জন্য এক স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত হবে।