খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী বহিঃখাত এবং কঠোর মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংক খাতে কিছু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিচক্ষণ আর্থিক ও মুদ্রানীতি সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের বহিঃখাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। পর্যালোচিত প্রান্তিকে বাণিজ্য ঘাটতি ৫.৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ালেও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ স্থিতিশীল থাকায় চলতি হিসাবের ঘাটতি মাত্র ০.৫৯৭ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ ছিল। আর্থিক হিসাবের (Financial Account) শক্তিশালী অবস্থান এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। এই সময়ে নিট আর্থিক প্রবাহ ছিল ১.৭ বিলিয়ন ডলার এবং নিট মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বৈদেশিক ঋণ পাওয়া গেছে ১.০ বিলিয়ন ডলার।
বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান অনেকটাই স্থিতিশীল ছিল। এই তিন মাসে ডলারের দাম ১২১.৮০ থেকে ১২২২.৬২ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
নিচে ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রধান অর্থনৈতিক সূচকসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| সূচকসমূহ | পরিমাণ/অবস্থান | মন্তব্য |
| বাণিজ্য ঘাটতি | ৫.৭ বিলিয়ন ডলার | আমদানির চাপের কারণে কিছুটা বর্ধিত। |
| রেমিট্যান্স প্রবাহ | শক্তিশালী ও স্থিতিশীল | চলতি হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। |
| বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (BPM6) | ২৬.৬ বিলিয়ন ডলার | বৈদেশিক দায় পরিশোধের পরও সহনীয় পর্যায়ে। |
| পলিসি রেট (Policy Rate) | ১০% | মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অব্যাহত। |
| খেলাপি ঋণ (NPL Ratio) | ৩৫.৭৩% | ব্যাংক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। |
মুদ্রানীতির কঠোর অবস্থানের কারণে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। যদিও খাদ্যপণ্যের বাজারে কিছুটা অস্থিরতা ছিল, তবে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম কম থাকা এবং বিনিময় হারের স্থিতিশীলতা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের রাজস্ব নীতিতেও শৃঙ্খলা লক্ষ্য করা গেছে। রাজস্ব আদায়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে প্রথম প্রান্তিকে সরকারি অর্থায়নে বাজেট উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। এই সময়ে সরকার নতুন করে ঋণ নেওয়ার বদলে আগের ঋণ পরিশোধে বেশি মনোযোগ দিয়েছে।
অর্থনীতির অন্যান্য সূচক ইতিবাচক হলেও ব্যাংকিং খাত এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের (NPL) হার বেড়ে ৩৫.৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর মুনাফা ও মূলধন ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য জানিয়েছে, সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং আর্থিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বিশ্ব বাণিজ্য উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো কিছু ঝুঁকি থাকলেও, শক্তিশালী বহিঃখাত ও নীতিগত শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিনগুলোতে স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।