খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
বিশ্ব অ্যাথলেটিকস অঙ্গনে এক বড় ধরনের ধাক্কা হয়ে এলো মার্কিন স্প্রিন্টার ফ্রেড কার্লির নিষেধাজ্ঞার সংবাদ। ডোপ টেস্টের জন্য নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না থাকা এবং নিজের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তাকে দুই বছরের জন্য সকল প্রকার প্রতিযোগিতামূলক অ্যাথলেটিকস থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (AIU) গত মঙ্গলবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর শাস্তির কথা নিশ্চিত করেছে।
অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের নিয়ম অনুযায়ী, শীর্ষ সারির অ্যাথলেটদের ডোপিং বিরোধী সংস্থাগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের অবস্থান বা ‘হোয়ারঅ্যাবাউটস’ (Whereabouts) তথ্য প্রদান করতে হয়। এটি করা হয় যাতে বছরের যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে আকস্মিকভাবে ডোপ টেস্ট করা সম্ভব হয়। ৩০ বছর বয়সী ফ্রেড কার্লি চলতি বছরে তিনবার নমুনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজের অবস্থান জানাতে অবহেলা করেছেন। ডোপিং বিরোধী আইন অনুযায়ী, ১২ মাসের মধ্যে তিনবার পরীক্ষা এড়ানো বা ভুল তথ্য দেওয়া সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল, যার সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা।
ফ্রেড কার্লি বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী স্প্রিন্টার। তিনি ১০০ মিটার ও ২০০ মিটার দৌড়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত মুখ। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য অর্জন নিচে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| প্রতিযোগিতার নাম | সাল ও স্থান | অর্জিত পদক | ইভেন্ট |
| টোকিও অলিম্পিক | ২০২০, জাপান | রৌপ্য পদক | ১০০ মিটার স্প্রিন্ট |
| প্যারিস অলিম্পিক | ২০২৪, ফ্রান্স | ব্রোঞ্জ পদক | ১০০ মিটার স্প্রিন্ট |
| বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ | ২০২২, ওরেগন | স্বর্ণ পদক | ১০০ মিটার স্প্রিন্ট |
| ডায়মন্ড লিগ | বিভিন্ন আসর | একাধিক শিরোপা | ১০০ ও ২০০ মিটার |
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ফ্রেড কার্লি আগামী দুই বছর কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। এর অর্থ হলো, তিনি আসন্ন বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু টুর্নামেন্ট মিস করবেন। যদিও কার্লি সরাসরি নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হননি, তবে পরীক্ষার জন্য উপস্থিত না হওয়াকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইনে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। অনেক ক্ষেত্রে একে ড্রাগ নেওয়ার চেয়েও বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মার্কিন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন এই শাস্তির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রেড কার্লির মতো একজন অভিজ্ঞ অ্যাথলেটের এমন আচরণ তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর কার্লি চাইলে ক্রীড়া আদালতের (CAS) কাছে আপিল করতে পারেন, তবে অ্যাথলেটিকস ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তথ্য-প্রমাণ যথেষ্ট জোরালো হলে এই শাস্তি কমার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। ২০২৬ সালের এই সিদ্ধান্তের ফলে তার ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফেরার পথও বেশ কঠিন হয়ে পড়ল।