খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গাইবান্ধা জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. আজগর আলী (৪৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে শহরের ব্যস্ততম স্টেশন রোডের একটি ভবনে সংস্কার কাজ চলাকালীন এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। আজগর আলীর এই আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্থানীয় শ্রমিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আজগর আলী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ী গ্রামের খোকা মিস্ত্রির ছেলে। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি কাঠমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকেই তিনি স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘পাল ম্যানশন’ নামক একটি ভবনের ছাদে টিন লাগানোর কাজ করছিলেন।
দুপুরের দিকে টিনের চালা গোছানোর সময় অসাবধানতাবশত মাথার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ হাজার কিলোভোল্টের (KV) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের স্পর্শে আসেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আজগর আলী চাল থেকে নিচে ছিটকে পড়েন। উচ্চ ভোল্টেজের তীব্রতায় এবং ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। আশপাশে থাকা অন্যান্য শ্রমিক ও পথচারীরা ছুটে এলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
নিচে এই দুর্ঘটনার প্রধান তথ্যগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| নিহতের নাম | মো. আজগর আলী |
| পিতার নাম | খোকা মিস্ত্রি |
| বয়স | ৪৫ বছর |
| পেশা | কাঠমিস্ত্রি |
| গ্রাম | খোলাবাড়ী, বল্লমঝাড় ইউনিয়ন, গাইবান্ধা সদর |
| ঘটনার স্থান | পাল ম্যানশন, স্টেশন রোড, গাইবান্ধা পৌরসভা |
| দুর্ঘটনার কারণ | ১১ হাজার কেভি তারের সাথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া |
| ঘটনার সময় | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (সোমবার) |
খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, অসাবধানতাবশত হাই-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বিষয়টি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।
এই দুর্ঘটনাটি আবারও নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। শহরের সরু রাস্তা এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবনের খুব কাছ দিয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন যাওয়ায় শ্রমিকদের প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে পোল্ট্রি, হার্ডওয়্যার বা টিনের শেড তৈরির সময় দীর্ঘ ধাতব বস্তু বা টিন এই উচ্চ ভোল্টেজের তারের কাছাকাছি চলে আসা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বিদ্যুৎ লাইনের পাশে কাজ করার সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা অথবা যথাযথ ইনসুলেটেড সরঞ্জাম ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।
আজগর আলীর মতো একজন দক্ষ শ্রমিকের অকাল মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ করে দেয়নি, বরং এটি আমাদের অগোছালো নগরায়ণ ও পেশাগত নিরাপত্তার অভাবকেও আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।