খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জোরপূর্বক দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ মে) রাতে উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের গোড়াগাছি হিন্দুপাড়ায় এ ঘটনায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় কৃষকরা পুকুর খননে বাধা দিতে গেলে হামলার শিকার হন। পরবর্তীতে এলাকাবাসীর প্রতিরোধে খননকারীরা পালিয়ে যায়। ওই সময় একটি মাটি কাটার যন্ত্র (ভেকু) ভাঙচুর করা হয় এবং ফেলে যাওয়া দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আবুল কালাম, যিনি দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এবং নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী।
পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার (৩১ মে) সকালে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কোনোভাবেই যেন পুকুর খনন করতে না পারে সেটি নজরদারি করা হচ্ছে। এর কয়েকদিন আগে সেখানে অভিযান চালিয়ে মাটি কাটা মেশিন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারপরও তারা গভীর রাতে খনন কাজ করতে গিয়েছিল। কোনোভাবে সেখানে পুকুর খনন করতে দেওয়া হবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জমির মালিক জানান, স্থানীয় কিছু বিএনপি নেতাকর্মী অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কয়েকজন হিন্দু পরিবারের কাছ থেকে জমি লিখে নেয়। বাকিরা দেয়নি। তারা কৌশলে জমিগুলো শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সনজিব ডাক্তারের নামে ডিট করে নেয়। পরে তার কাছ থেকে ১০ বছরের জন্য জমিগুলো লিজ হিসেবে ডিট করে নেয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম। অস্ত্রের মুখে ৫/৭ বিঘা জমি লিজ হিসেবে ডিট করে নিয়ে প্রায় ২০ বিঘা জমি দখল করে পুকুর খননের কাজ শুরু করে। স্থানীয় বিএনপি কর্মী আসাদুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে পুকুর খননের কাজ তদরকির দায়িত্ব পায়।
শিলমাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক আবু আসাদ বলেন, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আবুল কালাম বাহিনী ভেকু নিয়ে গিয়ে পুকুর খনন শুরু করে। এ সময় স্থানীয় কৃষকরা গিয়ে বাধা দেয়। এরপর কালাম বাহিনী অস্ত্র নিয়ে কৃষকদের ধাওয়া দেয়। খবর পেয়ে কৃষকদলের নেতাকর্মীরা কৃষকদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুকুর খননকারীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তারা পালিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের ফেলে যাওয়া কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল কালাম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ের দিকে জমিগুলো সনজিব ডাক্তার ও তার ভাই পুকুর খননের জন্য লিজ নিয়েছিল। কিন্তু পট পরিবর্তনের কারণে তারা পুকুর খনন করতে পারেনি। সম্প্রতি সনিজব আমাকে জমিগুলো ১০ বছরের জন্য লিজ দেয়। এরপরও আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করি। জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন কাজ শুরু করি।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে আবুল কালাম বলেন, কৃষকদল নেতা আবু আসাদ মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা আমার লোকজনের ওপর হামলা করে। এ সময় তারা আমার ভেকু ভাঙচুর করে এবং এর চালককে মেরে জখম করে।
অন্যদিকে আসাদুল ইসলাম বলেন, ওই পুকুরের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে পুকুর খনন কাজের জন্য জনবল সরবরাহ করেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু না। দুই দফায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় কৃষকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে শাওন, রবিউল, মোস্তাফিজুর ও ভেকু চালক রকিবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এ কে এম নুর হোসেন নির্ঝর জানান, পুঠিয়া উপজেলায় পুকুর খননের কোনো সরকারি অনুমতি নেই। অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি