খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ভারতের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড বাংলাদেশে চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি ঢাকায় সফরকালে অ্যাপোলো হাসপাতালের চেন্নাই অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদানই তাদের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
ডা. ইলাঙ্কুমারন কালিয়ামুর্তি বলেন, তারা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়াতে চান। তাঁর মতে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা দেশেই উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দিতে সক্ষম হবেন, ফলে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রোগী যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
অ্যাপোলো হসপিটাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি হাসপাতাল নেটওয়ার্ক। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের মোট ৭১টি হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার শয্যার ব্যবস্থা আছে। ক্যানসার চিকিৎসা, রোবোটিক সার্জারি, কিডনি ও যকৃত প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যে বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে, তা নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র | লক্ষ্য | সম্ভাব্য ফলাফল |
|---|---|---|
| ক্যানসার চিকিৎসা | আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি শেখানো | দেশে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা বৃদ্ধি |
| রোবোটিক সার্জারি | প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রোপচার দক্ষতা | জটিল অপারেশন সহজ ও নির্ভুল করা |
| কিডনি প্রতিস্থাপন | বিশেষায়িত সার্জিক্যাল প্রশিক্ষণ | দেশে প্রতিস্থাপন সেবা সম্প্রসারণ |
| যকৃত প্রতিস্থাপন | উন্নত চিকিৎসা দক্ষতা অর্জন | বিদেশমুখী রোগী কমানো |
জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় হাসপাতালগুলোকে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে অংশীদারিত্বের কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা জোরদারে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসকদের দক্ষতা যেমন বাড়বে, তেমনি রোগীদের জন্যও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেশের মধ্যেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।