খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
আইপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যাটিংয়ের ধরন, কৌশল ও মানসিকতায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শুধু রান বা ছক্কার সংখ্যা নয়, বরং ইনিংস গঠন, ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা এবং ব্যাটসম্যানদের ভূমিকা—সবকিছুতেই এসেছে আমূল রূপান্তর। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শুরুর দিকে আইপিএলে ব্যাটিং ইনিংস ছিল তুলনামূলকভাবে ধীর ও পরিকল্পিত। পাওয়ার প্লেতে ব্যাটসম্যানরা সতর্কভাবে খেলতেন। তখন ওভারপ্রতি রান ছিল প্রায় ৭.১২। মিডল ওভারেও গতি খুব বেশি বাড়ত না—গড় রান ছিল ৭.৫২। বরং ম্যাচের আসল গতি আসত শেষ ৫ ওভারে, যেখানে গড়ে ৯.৪২ রান তোলা হতো।
কিন্তু ২০২৫ সালে এসে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দেখা যায়। পাওয়ার প্লেতে রান বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯.১২ প্রতি ওভার। মিডল ওভারেও গতি থেমে নেই—গড়ে ৮.৬০ রান। আর ডেথ ওভারে এই হার দাঁড়িয়েছে ১০.৩৬ পর্যন্ত।
| সময়কাল | পাওয়ার প্লে (প্রতি ওভার রান) | মিডল ওভার | ডেথ ওভার |
|---|---|---|---|
| ২০০৮ | ৭.১২ | ৭.৫২ | ৯.৪২ |
| ২০২৫ | ৯.১২ | ৮.৬০ | ১০.৩৬ |
এই পরিবর্তন থেকে বোঝা যায়, এখন আর শেষের ওভারের অপেক্ষা করা হয় না; প্রতিটি ধাপেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০০৮ সালে শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যানই মূলত দলের রান সংগ্রহের বড় অংশ জোগাতেন। তারা মোট রানের প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি করতেন। মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের অবদান তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
কিন্তু ২০২৫ সালে এসে ব্যাটিং গভীরতা বেড়েছে। শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান এখন মোট রানের প্রায় ৫৬ শতাংশ করেন, তবে নিচের দিকের ব্যাটসম্যানরাও অনেক বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছেন। কারণ তারা এখন বেশি বল খেলার সুযোগ পাচ্ছেন এবং দ্রুত রান তুলছেন।
২০০৮ সালে পুরো মৌসুমে ছক্কার সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। কিন্তু ২০২৫ সালে তা প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। এটি শুধু শক্তি নয়, বরং আধুনিক ব্যাটিং কৌশল ও ফিটনেসের উন্নতির ফল।
| বিষয় | ২০০৮ সাল | ২০২৫ সাল |
|---|---|---|
| গড় ইনিংস রান | ১৪৫ | ১৭২ |
| গড় ছক্কা সংখ্যা | প্রায় ১০ | প্রায় ১৮ |
| ২০০ রানের ইনিংস | ৬.৯৯ শতাংশ | ২৯.৬৮ শতাংশ |
এক সময় ২০০ রান করা ছিল বিরল ঘটনা। ২০০৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত খুব অল্প কিছু ম্যাচেই এই স্কোর দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি অনেক সাধারণ হয়ে গেছে। এখন প্রায় তিনটি ম্যাচের মধ্যে একটিতে ২০০ বা তার বেশি রান হচ্ছে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্যাটসম্যানরা যতই আক্রমণাত্মক হোন না কেন, আউট হওয়ার গড় সময় খুব বেশি বদলায়নি। দুই যুগেই গড়ে প্রতি উইকেট পড়ছে প্রায় একই সংখ্যক বল পর। অর্থাৎ ব্যাটসম্যানরা বেশি সময় নয়, বরং একই সময়ের মধ্যে অনেক বেশি রান তুলছেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আইপিএলের ব্যাটিং এখন দ্রুতগতির, ঝুঁকিপূর্ণ এবং আরও কৌশলনির্ভর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণই এখন আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল পরিচয় হয়ে উঠেছে।