খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভোটার বাড়ছে, বাড়বে ভোটকেন্দ্রও—এই বাস্তবতায় আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। হালনাগাদ তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়াতে যাচ্ছে প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখে। ফলে পূর্ববর্তী নির্বাচনের তুলনায় এবার প্রায় আড়াই হাজারের বেশি নতুন ভোটকেন্দ্র যুক্ত হতে পারে।
ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই ভোটার অনুপাতে কেন্দ্র নির্ধারণে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৪ জন, যেখানে ৪২ হাজার ১৪৮টি ভোটকেন্দ্র ব্যবহার হয়েছিল। হালনাগাদে এখন সম্ভাব্য ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮৩ জনে। এতে ২ হাজার ৭৮৬টি নতুন কেন্দ্রসহ সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪ হাজার ৯৩৪টি।
আগামী নির্বাচনে অস্থায়ী কেন্দ্র ও কক্ষের সংখ্যাও বাড়তে পারে। আগের নির্বাচনে ২৬টি অস্থায়ী কেন্দ্র ও ১৭ হাজার ৭২৩টি অস্থায়ী কক্ষ ছিল। ইতোমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল অধিদপ্তরকে ভোটকেন্দ্রের সংস্কার কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমানাপ্রাচীর নেই কিংবা দরজা-জানালা জরাজীর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কার করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত হলে সে অনুপাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনেরও সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাটি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনসারের পাঁচ লাখ ১৬ হাজার সদস্য, কোস্টগার্ডের ২ হাজার ৩৫০ জন, বিজিবির ৪৬ হাজার ৮৭৬ সদস্য, পুলিশের (র্যাবসহ) থাকবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, অর্থাৎ মোট সাত লাখ ৪৭ হাজার ৩২২ জন সদস্য ভোটের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিল।
আনসারের জন্য জনপ্রতি ৬৩৭ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, কোস্টগার্ড ৬৩৭ টাকা থেকে এক হাজার ৮২০ টাকা, বিজিবি ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ২২৫ টাকা এবং পুলিশ ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০৬ টাকা জনপ্রতি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
ভোটকেন্দ্র বাড়লে নির্বাচন পরিচালনা ব্যয়ও বাড়বে। এক্ষেত্রে ব্যয় নির্বাহ করা হবে বরাদ্দ থেকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য খাতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য জাতীয় বাজেটে দুই হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ রেখেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে পরিচালনা খাতে দুই হাজার ৭২৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, আর উন্নয়ন খাতে ২২৯ কোটি পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনও রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ বিষয়ে বলেন, এবার ৪৪ লাখের মতো নতুন ভোটার যোগ হতে পারে। ভোটার সংখ্যা বাড়লে ভোটকেন্দ্রও বাড়বে, বাড়বে ব্যয়ও। আশা করি বরাদ্দকৃত বাজেটের মধ্যেই হয়ে যাবে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
খবরওয়ালা/এন