খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিম আকাশে গতকাল সন্ধ্যায় রুপালি চাঁদ দেখা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আনন্দের বার্তা। ঘরে ঘরে ভেসে উঠেছে সেই চিরচেনা সুর, রোজার শেষে খুশির ঈদের আগমনী ধ্বনি। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক মহিমান্বিত দিন।
রমজানজুড়ে আত্মসংযম, ত্যাগ ও সহমর্মিতার যে শিক্ষা অর্জিত হয়েছে, ঈদ সেই শিক্ষাকে সমাজজীবনে ছড়িয়ে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট উপলব্ধি করে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার যে চর্চা চলেছে, ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে তা আজ বাস্তব রূপ পায়। এতে সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়।
ঈদকে ঘিরে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও নৌঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নাড়ির টানে প্রিয়জনের কাছে ফিরতে মানুষকে সহ্য করতে হয়েছে তীব্র গরম, দীর্ঘ যানজট ও অপেক্ষার কষ্ট। তবে সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছে আপনজনের সান্নিধ্য। গ্রামের বাড়িতে ফিরে মা-বাবার স্নেহ, আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা আর শৈশবের স্মৃতিমাখা পরিবেশে ভরে উঠেছে হৃদয়।
রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত বাজারগুলোতে ছিল কেনাকাটার ভিড়। আতর, টুপি, সেমাই, চিনি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। গৃহিণীরা ব্যস্ত ছিলেন রান্নাবান্নার প্রস্তুতিতে, আর তরুণ-তরুণীরা সাজসজ্জায়। হাতে মেহেদির নকশা আঁকার আয়োজন ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
আজ সকালে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধারাবাহিকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে মানুষ একে অপরকে আলিঙ্গন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন, যা সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক।
ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিরা পৃথক বার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির আহ্বান জানিয়েছেন। বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও ঈদের আনন্দে ভাটা পড়েনি, তবে সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব আজ আরও বেশি।
ঈদ আমাদের শেখায় ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা। আজকের এই দিনে সবার জন্য প্রার্থনা—জীবনে আসুক শান্তি, হৃদয়ে জাগুক মানবতা, আর সমাজ হোক ন্যায় ও কল্যাণে পরিপূর্ণ।