আজ চিত্রনায়ক সালমান শাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী
প্রকাশ: শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে কয়জন তারকা আলোকবর্তিকার মতো জ্বলে উঠেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ার, ২৭টি চলচ্চিত্র তবুও তিনি দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে গেছেন অমর নায়ক হয়ে। আজ ৬ সেপ্টেম্বর, এই চিত্রতারকার ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহানের “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। প্রথম ছবিতেই দর্শকের হৃদয় জয় করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ঢালিউড যখন নায়ক সংকটে ভুগছিল, তখন সালমানের আবির্ভাব যেন নতুন সূর্যোদয়। রোমান্টিক হিরো হিসেবে তিনি একের পর এক হিট ছবি উপহার দেন—আনন্দ অশ্রু, স্বপ্নের ঠিকানা, তোমাকে চাই, এই ঘর এই সংসার, প্রিয়জন—তাঁর প্রতিটি ছবিই ছিল আলোচিত ও দর্শকনন্দিত।
তাঁর পোশাক, হেয়ারস্টাইল, অভিনয়ের ভঙ্গি—সবকিছুই ছিল ভিন্ন ধাঁচের। নব্বইয়ের দশকের তরুণ প্রজন্ম তাঁকে ফ্যাশন আইকন মনে করত। শুধু বাণিজ্যিক সিনেমাই নয়, সামাজিক ও রোমান্টিক গল্পের ছবিতেও তিনি সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। অনেকেই বলেন, সালমান শাহই ছিলেন ঢালিউডে আধুনিক নায়ক চরিত্রের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আকস্মিকভাবে মৃত্যু ঘটে সালমান শাহর। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া আজও দর্শকের মনে নাড়া দেয়। মৃত্যুকে ঘিরে নানা জল্পনা–কল্পনা, বিতর্ক ও রহস্য রয়ে গেছে আজও অমীমাংসিত। তবে একটি বিষয় নিঃসন্দেহে সত্য, তাঁর প্রস্থান বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছিল।
প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সালমান শাহ এখনো ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। আজকের দিনে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন তাঁর স্মরণে মিলাদ, আলোচনাসভা ও প্রার্থনার আয়োজন করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো প্রচার করছে তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্র ও বিশেষ অনুষ্ঠান। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো ভক্ত আবেগভরা পোস্ট দিয়ে স্মরণ করছেন প্রিয় তারকাকে।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নায়ক বলতে এখনো অনেকের চোখে ভেসে ওঠে সালমান শাহর মুখ। তাঁর অভিনীত গান, সংলাপ, দৃশ্য আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের আকৃষ্ট করে। হয়তো এ কারণেই বলা হয়, নায়করা জন্মান, আবার চলে যান, কিন্তু সালমান শাহ এক চিরকালীন নায়ক, যিনি মৃত্যুর পরও অমর হয়ে আছেন দর্শকের হৃদয়ে।
খবরওয়ালা/এমএজেড