খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আদর্শিক বিভেদ এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে এনসিপির অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটির অন্যতম শীর্ষ নেত্রী ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম নিজেকে সমস্ত রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় ঘোষণা করেছেন। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই নাটকীয় ঘোষণা দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং এনসিপির আদর্শিক লড়াইয়ের অগ্রসৈনিক ছিলেন।
নুসরাত তাবাসসুম তাঁর পোস্টে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও কঠোর ভাষায় দলের বর্তমান নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এনসিপি যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন এটি গণতন্ত্রের সুষম চর্চা, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, মধ্যপন্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। তিনি মনে করেন, জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং শর্তসাপেক্ষ এই জোটে অংশগ্রহণ এনসিপির সেই মূল আদর্শ বা ‘বাংলাদেশপন্থা’র সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তাঁর মতে, এনসিপির ঘোষণাপত্রে যা লেখা ছিল, বর্তমান নেতৃত্ব ব্যক্তিগত স্বার্থে সেই পথ থেকে চ্যূত হয়েছে।
নির্বাচনী জোটের এই সিদ্ধান্তকে তিনি তৃণমূলের কর্মী এবং মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে এক ধরনের ‘প্রবঞ্চনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। নুসরাত জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং স্বয়ং আহ্বায়ক বারবার ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী সেই আশ্বাসে উজ্জীবিত হয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে ১০ দলীয় জোটে যোগ দিয়ে আসন সমঝোতার পথে হাঁটা সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
| বিষয়বস্তু | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ব্যক্তিত্ব | নুসরাত তাবাসসুম (যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি) |
| ঘোষণার মাধ্যম | সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক পোস্ট) |
| মূল অভিযোগ | আদর্শিক বিচ্যুতি ও তৃণমূলের সাথে প্রবঞ্চনা |
| বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু | জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে অংশগ্রহণ |
| রাজনৈতিক অবস্থান | নির্বাচনকালীন সময়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় ঘোষণা |
| এনসিপির প্রতিশ্রুতি | ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা থেকে সরে আসা |
নুসরাত তাবাসসুমের এই ঘোষণা এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য তিনি নিজেকে নিষ্ক্রিয় করছেন। তবে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই জোটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা না হলে তিনি যেকোনো সময় চূড়ান্ত ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নুসরাত মনে করেন, রাজনৈতিক সততা ও স্বচ্ছতার অভাবে এনসিপি তার জন্মলগ্নের জৌলুস হারাতে বসেছে।
বর্তমানে এনসিপির ভেতরে এই জোট নিয়ে আরও অনেক নেতার মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে গঠিত এই তরুণদের দল যদি নির্বাচনের আগেই আদর্শিক সংকটে পড়ে, তবে তা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নুসরাত তাবাসসুমের এই পদক্ষেপে সংহতি জানিয়ে অনেক তৃণমূল কর্মীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, এনসিপির নীতিনির্ধারকেরা এই সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেন কি না।