আনুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে ভোট আরও বেশি স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এতে স্থানীয় পর্যায়ে নেতা ও নেতৃত্ব তৈরি হবে না বলেও মনে করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) সকালে রংপুর নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যূত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও ব্লাড গ্রুপিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকে নানা কথা সামনে আনা হচ্ছে—আনুপাতিক ভোট। কেন আনুপাতিক ভোট? এটা তো এলাকার নেতৃত্ব গঠনের পথ রুদ্ধ করবে। কেউ যদি দীর্ঘদিন এলাকায় থেকে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নেতা হন, তাঁকেও তো তখন দলীয় সিদ্ধান্তে বাদ দেওয়া হতে পারে। এতে আরও বেশি স্বৈরশাসনের দিকে যাওয়া হবে।’
বিএনপি চিরায়ত গণতন্ত্রের যে ভোট, সেই পদ্ধতি চেয়েছে—উল্লেখ করে রিজভি বলেন, ‘যাঁরা বৈধ ভোটার, তাঁরা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। যে দলের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ভোট পাবে, তারাই সরকার গঠন করবে। ১৮ কোটি মানুষের দেশে যেখানে ১২ কোটি ভোটার, সেখানে কীভাবে আনুপাতিক ভোটের কথা বলা হচ্ছে—তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
আওয়ামী লীগের মতো ‘রক্তপিপাসু’ দল যাতে আর ক্ষমতায় না আসতে পারে, সে জন্য গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য দরকার বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে হচ্ছে একে অপরের বিরুদ্ধে মুক্তভাবে সমালোচনা করা, ভিন্নমত প্রকাশ করা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে কাজ করবে। কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে—এটাই হওয়া উচিত।’
চাঁদাবাজি-দখলবাজির সঙ্গে যেন বিএনপি নেতাকর্মীদের নাম শোনা না যায়- সতর্ক করে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি হিসেবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। আমাদের দ্বারা যেন কোন সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চাঁদাবাজি, দখলবাজির সঙ্গে যেন কোন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর নাম শোনা না যায়। মানুষ যেন আমাদের কোন আচরণে ব্যথিত না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাকর্মীদের গত ১৬ বছর দুর্বিষহ দিন গেছে। কোন তরুণ রাতে ঘুমাতে পারেনি। শেখ হাসিনার করাল গ্রাস থেকে কেউ নিস্তার পায়নি। শহীদ আবু সাঈদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাক করা বন্দুকের সামনে বুক চেতিয়ে আত্মদান করেছিলেন। তাঁর আত্মদানের মধ্য দিয়ে সারাদেশে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। আমরা অনেক তরুণ ছাত্রদের হারিয়ে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।’
অনুষ্ঠানে রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, ড্যাব মহানগরের আহ্বায়ক ডা. নিখিলেন্দ্র শংকর গুহ, রংপুর মেডিকেল কলেজের আহ্বায়ক ডা. মাহমুদল হক সরকার, জেলা ড্যাবের আহ্বায়ক ডা. খালেকুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/এসআর



