খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলার জবাবে আফগানিস্তানের বাহিনী ইসলামাবাদের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালিয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাদ-উল-জুলম’, যা আফগান বাহিনীর পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলার একটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর জানিয়েছে টোলো নিউজ।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় পাকিস্তানের প্রধান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়। হামলার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আগের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং কাবুলকে নিরাপদ রাখা।
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি জানিয়েছেন, এই অভিযান প্রমাণ করে যে আফগানিস্তান কাবুল থেকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলার ক্ষমতা রাখে, বিশেষ করে বিমান ও স্থলভিত্তিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে।
আফগান বাহিনীর হামলার ফলে আফগানিস্তান-পাকিস্তান আলোচনার সম্ভাবনা বাতিল হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে টোলো নিউজ জানিয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এখনও আফগানিস্তানের পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে হামলা চালাচ্ছে।
কুনারের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানি বাহিনী কুনারের বিভিন্ন জেলায় ২৭১টির বেশি রকেট ছুড়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এবং নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের নাম | রাদ-উল-জুলম |
| হামলার তারিখ ও সময় | শুক্রবার, বিকেল ৫টা (১৭ মার্চ ২০২৬) |
| স্থান | ইসলামাবাদ, ফয়জাবাদ এলাকা |
| নিহত পাকিস্তানি সেনা | ১৪ জন |
| আহত পাকিস্তানি সেনা | ১১ জন |
| পাকিস্তানের হামলার লক্ষ্য | আফগানিস্তানের পাকতিকা ও কুনার প্রদেশ |
| রকেট হামলার সংখ্যা | ২৭১+ (৪৮ ঘণ্টায়) |
| বিশ্লেষক মন্তব্য | আফগান বাহিনী কাবুল থেকে পাকিস্তানের স্থাপনা লক্ষ্য করতে সক্ষম |
আফগান বাহিনীর এই প্রতিশোধমূলক হামলা পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে, এবং সম্ভাব্য পাল্টাপাল্টি হামলার শঙ্কা তৈরি করেছে। এ ঘটনার ফলে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত আলোচনার অবস্থা স্থগিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন যে, উভয়পক্ষের এই সামরিক উত্তেজনা সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষ এবং আফগান-পাকিস্তান অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।