খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, তার ‘ফজু পাগলা’ নামটি প্রথমে উচ্চারণ করেছেন মুফতি আমির হামজা নামে একজন। পরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সংগঠন জামায়াতে ইসলামীও তাকে ‘ফজু পাগলা’ বলে আখ্যা দেয়। সোমবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তার স্ত্রী ও ছেলে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন।
দেশের স্বাধীনতার জন্য ৫৪ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধ করার কথা উল্লেখ করে ফজলুর রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, এই দেশে তার বেঁচে থাকার অধিকার আছে কি না। বিশ্বজুড়ে ঘৃণিত ‘মব জাস্টিস’ তার ওপর চালানো হতে পারে কি না। এগুলোর উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে এসবের প্রতিবাদ করতে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে গত রবিবার বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। এরপর থেকেই রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তার বাসার সামনে একদল ব্যক্তি অবস্থান নিয়ে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
নিজের ও স্ত্রী–সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “হে বাংলাদেশের মানুষ, আমি তো আজ থেকে ৫৪ বছর আগে আপনাদের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। আজকে যে সন্তানেরা আমার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়, তাদের জন্যই একটি স্বাধীন দেশ সৃষ্টি করেছিলাম। তোমাদের কাছ থেকে কি আমার অপমৃত্যু কাম্য?”
ফজলুর রহমান বলেন, যদি তার কোনো কথায় দেশ বা কারও প্রতি আঘাত লেগে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে মামলা বা গ্রেপ্তার হতে পারে। কিন্তু তাকে হত্যার জন্য মব সৃষ্টি করা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি প্রশ্ন রাখেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে কুখ্যাত ‘মব জাস্টিস’ কি তার ওপর চালানো হবে?
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ, আপনারা জেনে রাখুন, আমার জীবন বড় শঙ্কায় আছে। আমি মুক্তিযুদ্ধ ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। আমি একজন মানুষ। আমার অধিকার আছে বেঁচে থাকার।”
সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জিডি করব না, মাইরা ফেললেও… জিডি–টিডি কিছুই করব না।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রাজনীতি করা তার প্রধান কাজ হলেও জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি আইন পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, “গতকালকে একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি পাঁচটার দিকে শুনলাম আমাকে দল শোকজ নোটিশ দিয়েছে। রাত নয়টায় কাগজও পেলাম। এতে কিছু কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তার জন্য উত্তর দিতে বলা হয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। দলের একজন কর্মীর কোনো ক্রটি থাকলে শোকজ করতেই পারে। আমি উত্তর দেব, দল সিদ্ধান্ত নেবে। এখনো আমি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।”
শোকজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এখনো সেটা বলব না। তবে আগে থেকেই অনেক মহান মানুষকে অপমান করা হয়েছে। আমি তো সামান্য ফজলুর রহমান। আমাকে জুতা মারুক বা মিছিল করুক, সেটা করতেই পারে। কিন্তু হত্যা করার জন্য আমার বাড়ির সামনে মব সৃষ্টি করা আমার মৌলিক অধিকার হরণ।”
মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে সবসময় কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছাত্ররা বা অন্য দলের লোকেরা যদি মনে করে আমি জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, তাহলে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেবে। এর জন্য কাউকে হত্যা করার দরকার নাই।”
তিনি বলেন, সোমবার সকালে তার বাসার সামনে কিছু তরুণ স্লোগান দেয়, “ফজু পাগলাকে গ্রেপ্তার করো।” এ সময় তিনি জানান, “এই নামটা আমাকে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামী। প্রথম বলেছে মুফতি আমির হামজা। এখন তারাও আমার নামে স্লোগান দিচ্ছে। কিন্তু আসল বিষয় হলো, তারা আমাকে হত্যা করতে চায়।”
ফজলুর রহমান বলেন, “মৃত্যুকে আমি ভয় করি না। তবে অপমৃত্যু সবচেয়ে বেশি লজ্জাজনক। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ-বিদেশে আমাকে মব জাস্টিসের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। ফ্রান্স থেকে দুজন সাংবাদিক পর্যন্ত বলেছেন, আমাকে হত্যা করতে হবে। জামায়াতের এক ইউটিউবার বলেছে, আমাকে জবাই করে হত্যা করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক। আমার বাঁচার অধিকার আছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাঁচার অধিকার এ দেশে আছে, এটা আমি মনে করি। আপনাদের কি মনে হয়, আমাকে হত্যা করা উচিত? যারা আমার বাড়ির সামনে এসেছিল, আমি তাদের চিনি না।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও প্রশ্ন রাখেন, “আমি কি একা একা দেশে চলতে পারব না? আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমার স্ত্রীর খবর পেয়ে দ্রুত এসেছে। তাদের ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে পুলিশ-আর্মি গার্ড বসানো কি সম্মানজনক ব্যাপার?”
তিনি শেষে বলেন, “সারা জাতিকে জানাতে চাই, আমার জীবন বড় শঙ্কায় আছে। আমি মুক্তিযুদ্ধ ভালোবাসি, দেশের মানুষকে ভালোবাসি। আমি একজন মানুষ। আমার অধিকার আছে বেঁচে থাকার।”
খবরওয়ালা/টিএসএন