খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নতুন পোশাক কেনার আনন্দে মায়ের সাথে বাজারে এসেছিল ১৬ বছরের কিশোর ফাহাদ হোসেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নিল। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্মাণাধীন দোকানের দেয়াল ধসে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে এই স্কুলছাত্রের। নিজ চোখের সামনে আদরের সন্তানের এমন করুণ মৃত্যু দেখে মা নাছিমা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন; বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলা শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম চৌরাস্তা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার বাঁশঘর গ্রামের আহমদ আলী গাজী বাড়ির সৌদি প্রবাসী আলমগীর হোসেন বকুলের ছেলে ফাহাদ হোসেন তার মায়ের সাথে বাজারে এসেছিল ঈদের কেনাকাটা করতে। একই সাথে তাদের একটি পুরনো সেলাই মেশিন মেরামতের জন্য ‘আল মনসুর ড্রাগ হাউস’ নামক একটি ফার্মেসির পাশের দোকানে দেয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ফাহাদ ও তার মা ড্রাগ হাউসটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ দোকানের ওপরের অংশের পুরনো একটি দেয়াল হুড়মুড় করে তাদের ওপর ধসে পড়ে। ধসে পড়া দেয়ালের বিশাল খণ্ডের নিচে চাপা পড়ে ফাহাদ গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| নিহতের নাম | ফাহাদ হোসেন (১৬) |
| পিতার নাম | আলমগীর হোসেন বকুল (সৌদি প্রবাসী) |
| শিক্ষাগত পরিচয় | এসএসসি পরীক্ষার্থী, নিচহরা উচ্চ বিদ্যালয় |
| দুর্ঘটনার স্থান | চৌরাস্তা এলাকা, আল মনসুর ড্রাগ হাউসের সামনে |
| আহতের সংখ্যা | মা নাছিমা বেগমসহ মোট ৫ জন |
| গুরুতর আহত | খোরশেদ আলম (কোমর ভেঙে যাওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ) |
ফাহাদ স্থানীয় নিচহরা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র এবং এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আমেজ শুরু হওয়ার আগেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো রামগঞ্জবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কাজ করায় মালিকপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ফাহাদ ও তার মা মূলত পথচারী ছিলেন। দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মা নাছিমা বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খোরশেদ আলম নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
নিরাপত্তাহীনভাবে নির্মাণকাজ চালানোর ফলে এমন অকাল মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। ফাহাদের পরিবার এখন কেবল তার মরদেহ নিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে কয়েক ঘণ্টা আগেও তার ঈদের নতুন পোশাক পরার কথা ছিল।