খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির প্রধান কৃষিভিত্তিক অঞ্চল আর্টিবোনিতে ভয়াবহ সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। একই ঘটনায় আরও প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই সহিংসতা দেশটির ভঙ্গুর নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো জানায়, গত রোববার ভোরের দিকে জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামীণ জনপদে একযোগে হামলা শুরু হয়। গ্যাং সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা সহিংসতা সোমবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। অনেক পরিবার ঘর থেকে বের হওয়ারও সুযোগ পায়নি।
একাধিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজারে পৌঁছেছে। এর আগে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একই অঞ্চলে কয়েক দিনের মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ফলে মোট বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাথমিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম দেখানো হয়েছিল। শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ১৬ জন নিহত ও ১০ জন আহতের তথ্য দেওয়া হয়। পরে সিভিল সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ১৭ জন নিহত ও ১৯ জন আহতের কথা জানায়। তবে মাঠপর্যায়ের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সংখ্যাকে অনেক বেশি বলে দাবি করে আসছিল, যা শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ জনে পৌঁছায়।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে জানান, দেশটিতে নিযুক্ত শান্তিরক্ষা ও পর্যবেক্ষণ মিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই সহিংসতায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে। তিনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আর্টিবোনিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা উপস্থিতির ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ধীর প্রতিক্রিয়া এবং পুরো অঞ্চল গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার প্রবণতা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতারই প্রতিফলন।
নিচে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া হতাহতের তথ্যের তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—
| তথ্য প্রদানকারী সংস্থা | নিহতের সংখ্যা | আহতের সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| স্থানীয় পুলিশ | ১৬ জন | ১০ জন | প্রাথমিক রিপোর্ট |
| সিভিল সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ | ১৭ জন | ১৯ জন | আংশিক হালনাগাদ |
| মানবাধিকার সংস্থা | প্রায় ৭০ জন | প্রায় ৩০ জন | মাঠপর্যায়ের অনুমান |
| জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট মিশন | ১০–৮০ জন (আনুমানিক) | উল্লেখ নেই | পর্যালোচনাধীন তথ্য |
বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্টিবোনির মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি অঞ্চলে এ ধরনের সহিংসতা খাদ্য উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। একই সঙ্গে বড় পরিসরে বাস্তুচ্যুতি মানবিক সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সংকট আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।