খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 3শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা জামায়াত নেতা আনিছুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজিবপুর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
বহিষ্কৃত আনিছুর রহমান জামায়াতের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজিবপুর উপজেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালিন করছিলেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় উপজেলা জামায়াত নেতা আনিছুর রহমান ভুয়া স্কুল খুলে ২১ পরিবারকে নিঃস্ব করেছে এবং বাবু নামে এক ব্যবসায়ীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে মর্মে রিপোর্ট প্রকাশ হয়। সেটি জামায়াতের দায়িত্বশীলদের দৃষ্টিগোচর হয়। সংগঠনের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কাজ করায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।
রাজিবপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আজিজুর রহমান বলেন, সংগঠনের কোনো নেতা বা কর্মীর সংগঠনের নীতি আদর্শ ও পরিপন্থি কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার সুযোগ নেই। তাই অভিযুক্ত আনিছুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেইসঙ্গে জেলা জামায়াত আমিরের নির্দেশক্রমে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠিত কমিটি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
এর আগে, বাবু মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার এক মিনিট ২১ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ড ও এক মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও রেকর্ড গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
বাবু মিয়া বলেন, ২০১৩ জামায়াতে ইসলামী রাজিবপুর উপজেলা শাখা কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলার ভয় দেখিয়ে ওসির কথা বলে চাঁদা দাবি করেন আনিসুর রহমান।
ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়- জামায়াত নেতা আনিসুর রহমান বাবুকে বলেন, ‘বাবু শোনো তোমার বিষয়ে আমাকে ফোন দিয়েছিল অফিসার (ওসি)। আমি বলছি ও আমার ছোট ভাই, বিষয়টা আমি দেখব। তুমি আমার সাথে জরুরি দেখা করো। তোমার যদি একটা পশমের (চুল) ক্ষতি হয়, আমি রাজিবপুরে দ্বিতীয় দিন আর মুখ দেখাব না।’
অপরপ্রান্ত থেকে ওই ব্যবসায়ী কিছু বলতে চাইলে তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমার কথা শোনো তুমি, বেশি কথা বলো কিসের জন্য? আমি তোমাকে যে কথা বলছি এর থেকে বড় কোনো কথা আছে? তুমি কিসের চিন্তা করো? আমি বলছি তোমার যদি একটা পশমের যদি ক্ষতি হয় তাহলে তুমি আমাকে জুতা পেটা করবা। এক ঘণ্টার মধ্যে তুমি কোথায় থাকো আমি যাইতেছি। তুমি আমার মোটরসাইকেলে ঘুরবা। পৃথিবীর কোনো শক্তি নেই ইনশাআল্লাহ। তুমি ফ্রি থাকো, আলহামদুল্লিাহ বলে দুই গ্লাস পানি খাও। তোমার ভাই আছে তোমার পাশে।’
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানান, এরপর ওই ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে তার মোটরসাইকেলে ওঠেন। মোটরসাইকেলে ওঠার ভিডিতেও ওই একই কথা বলতে শোনা যায় ‘তোমার বিষয়টা আমি দেখব, তুমি ৫০ হাজার টাকা রেডি করো।’
ব্যবসায়ী বাবু মিয়া বলেন, ‘জামায়াত নেতা আনিসুর আমাকে মামলা ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাইছে। আমি একজন ব্যবসায়ী, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না। অনেক আগে থেকেই আমি রাজীবপুর বাজারে পার্টসের ব্যবসা করে আসছি। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীতায় ভুগছি।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমি তার কাছে কোনো টাকা চাইনি, এসব ষড়যন্ত্র।’
অডিও-ভিডিওর বিষয়ে তিনি অডিও রেকর্ডটি এডিট বললেও তার মোটরসাইকেলে ঘোরার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে জামায়াতের অফিস ভাঙচুর হয়েছে, আর মামলা হয়েছে ৫ আগস্টের পর। সে সময় তার বয়সও হয়নি, সে মামলার আসামি হয় কিভাবে?’
খবরওয়ালা/এন