খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে মাঘ ১৪৩২ | ১৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের সোনারামপুর সেতুতে ভয়াবহ একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহত হন, যারা মোটরসাইকেলে ভৈরবের দিকে যাচ্ছিলেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে আশুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পরিচয় ও স্থানীয় তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | পিতার নাম | গ্রামের নাম | উপজেলার নাম | জেলার নাম |
|---|---|---|---|---|---|
| সামাউন | ২০ | শহিদুল ইসলাম | লক্ষ্মীপুর | ভৈরব | কিশোরগঞ্জ |
| আব্দুর রহমান | ২৩ | মাকরুল মোল্লা | লক্ষ্মীপুর | ভৈরব | কিশোরগঞ্জ |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার সময় মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক ভৈরবের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটি দ্রুতগতির ট্রাকের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি ভেঙে যায় এবং দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন, কিন্তু চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আশুগঞ্জ থানার ওসি মো. সফিউল আলম চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগে নিহতদের স্বজনরা লাশ নিয়ে ভৈরব চলে যান। তিনি জানান, বিষয়টি হাইওয়ে থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
হাটিখাতা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “দুর্ঘটনার খবর আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
দুর্ঘটনার ফলে সাময়িকভাবে সোনারামপুর সেতুর পারাপার ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, তবে পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা বলছেন, সেতু এলাকায় নিয়মিত দ্রুতগামী যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি খুব বেশি। তারা মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ এবং সতর্কতা চিহ্ন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাক ও মোটরসাইকেলের অভিন্ন লেন ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিরোধ মূলক পদক্ষেপ যেমন সেতুতে স্পিড ব্রেকার, লাইটিং, এবং ট্রাফিক সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এ দুর্ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং দ্রুতগতির যানবাহনের নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।