খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে মাঘ ১৪৩২ | ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৩ সালের চব্বিশ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের একটি নৃশংস ঘটনা আজ নতুন ধাপের বিচারিক রায়ের দিকে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের প্যানেল আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানো এবং একজনকে গুলি করে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্ব দিচ্ছেন, প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তৃতীয় রায়।
গত রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) আদালত মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। মামলাটি ২০ জানুয়ারি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। এর আগে ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি প্রসিকিউটররা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন মো. মিজানুল ইসলাম ও চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সৈয়দ মিজানুর রহমান ও এস. এম. মিরাজুল আলম আজমান।
মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন:
| আসামির নাম | পদবি/পদ | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| মো. আব্দুল্লাহিল কাফী | সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ঢাকা জেলা পুলিশ | গ্রেপ্তার |
| মো. শাহিদুল ইসলাম | সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল), ঢাকা জেলা পুলিশ | গ্রেপ্তার |
| মো. আরাফাত হোসেন | পরিদর্শক | গ্রেপ্তার |
| আবদুল মালেক | এসআই | গ্রেপ্তার |
| আরাফাত উদ্দিন | এসআই | গ্রেপ্তার |
| কামরুল হাসান | এএসআই | গ্রেপ্তার |
| শেখ আবজালুল হক | এসআই | গ্রেপ্তার ও দোষ স্বীকার |
| মুকুল চোকদার | কনস্টেবল | গ্রেপ্তার |
| সাইফুল সহ ৮ জন | সাবেক এমপি সহ অন্যান্য | পলাতক |
গত বছরের ২১ আগস্ট মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ওই সময়ে উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন, তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
এই মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে আশুলিয়ার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পূর্ণ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশে একটি স্থায়ী বিচারিক কাঠামো হিসেবে বিবেচিত। রায়ের পর দেশজুড়ে এই মামলার প্রভাব এবং মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।