খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কিংবদন্তি আইরিশ রক ব্যান্ড ‘ইউ টু’ (U2) তাদের দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে প্রকাশ করেছে নতুন এক্সটেন্ডেড প্লে (ইপি) ‘ডেজ অব অ্যাশ’ (Days of Ash)। গত বুধবার কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে এটি অবমুক্ত করা হয়। ছয়টি শক্তিশালী গানের সমন্বয়ে গঠিত এই ইপির মূল উপজীব্য হলো বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, মানবিক সংকট এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শৈল্পিক প্রতিবাদ। ২০১৭ সালে তাদের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘সংস অব এক্সপেরিয়েন্স’ প্রকাশের পর এটিই ব্যান্ডের পক্ষ থেকে আসা উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন সৃষ্টি।
এই ইপির প্রতিটি গান যেন একেকটি জ্বলন্ত দলিল। বিশেষ করে ‘আমেরিকান অবিচুয়ারি’ শিরোনামের চার মিনিট দৈর্ঘ্যের গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। গানটি উৎসর্গ করা হয়েছে রেনি গুডকে, যিনি মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (ICE) একজন এজেন্টের গুলিতে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছিলেন। এই গানের মাধ্যমে ব্যান্ডটি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। এছাড়া প্রখ্যাত কবি ইয়েহুদা আমিখাইয়ের কালজয়ী কবিতা ‘ওয়াইল্ডপিস’-এ সুরারোপ করে শান্তির বারতা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে ইউ টু।
গাজা, ইরান ও ইউক্রেনের মতো বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির জনপদগুলোর মানুষের আর্তনাদ এই ইপিতে স্থান পেয়েছে। ‘ইয়োরস ইটারনালি’ গানটি এই সংগ্রহের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ, যেখানে পপ তারকা এড শিরান এবং ইউক্রেনীয় রক তারকা তারাস তোপোলিয়া অতিথি শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, তারাস তোপোলিয়া কেবল একজন শিল্পীই নন, তিনি রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরেও অংশ নিয়েছেন। তাদের এই মেলবন্ধন গানটিকে একটি আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতীকে পরিণত করেছে।
‘ডেজ অব অ্যাশ’ ইপির উল্লেখযোগ্য তথ্যাবলি:
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| মোট গানের সংখ্যা | ৬টি মূল ট্র্যাক। |
| মূল থিম | প্রতিবাদ, মানবিকতা ও বিশ্বশান্তি। |
| সহযোগী সংস্থা | সিপিজে (CPJ), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএনএইচসিআর। |
| বিশেষ ট্র্যাক | আমেরিকান অবিচুয়ারি, ইয়োরস ইটারনালি, ওয়াইল্ডপিস। |
| অতিথি শিল্পী | এড শিরান এবং তারাস তোপোলিয়া। |
ব্যান্ডের প্রধান গায়ক বোনো এই কাজটিকে বর্ণনা করেছেন এক গভীর অনুভবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে। তিনি বলেন, “এগুলো কেবল সুর নয়; এগুলো হলো প্রতিবাদ, গভীর হতাশা এবং বিলাপের গান। আমরা এখন কষ্টের সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তাই উদযাপনের সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা শীঘ্রই সেই খুশির গানগুলো নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।” বেজ গিটারিস্ট অ্যাডাম ক্লেইটনও এই নতুন প্রজেক্ট নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ের অস্থির প্রেক্ষাপটে এই গানগুলোর মুক্তি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।
ব্যান্ডটি কেবল সংগীত নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও এই ইপির সাথে যুক্ত করেছে ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট’ (CPJ), ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ‘ইউএনএইচসিআর’-কে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, শিল্পের মাধ্যমে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত করার ক্ষমতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি।