ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধের তৃতীয় সপ্তাহে এসে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে সতর্ক করেছে। সংশ্লিষ্ট সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ একদিনে তৈরি হয়নি। গত বছর ইরানের সঙ্গে সীমিত সংঘর্ষের সময়ই ইসরায়েল বিপুল পরিমাণ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করেছিল, যার ফলে তাদের মজুত আগেই অনেকটা কমে গিয়েছিল। বর্তমান সংঘাতে ইরানের ক্রমাগত ও পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ সেই দুর্বলতাকে আরও প্রকট করে তুলেছে। ইসরায়েলের বহুমাত্রিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর এখন অভূতপূর্ব চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামাল দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের নতুন কৌশল। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে কিছু ক্ষেপণাস্ত্রে গুচ্ছ বোমা সংযুক্ত করা হয়েছে, যা মাঝপথে ধ্বংস করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত না হলে তা একাধিক ক্ষুদ্র বিস্ফোরণে বিভক্ত হয়ে বৃহত্তর ক্ষতি করতে পারে। এতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একাধিক লক্ষ্য মোকাবিলা করতে হয়, ফলে দ্রুত ইন্টারসেপ্টর খরচ হয়ে যায়।
নিচের সারণিতে বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান উপাদানগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| সংঘাতের সময়কাল | তৃতীয় সপ্তাহে চলমান |
| প্রধান হুমকি | ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা |
| জটিলতা | গুচ্ছ বোমাযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র |
| প্রভাব | ইন্টারসেপ্টরের দ্রুত ক্ষয় |
| কৌশলগত উদ্বেগ | দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা হ্রাস |
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা আগেই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করেছিলেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি পূর্বানুমানযোগ্য একটি সমস্যা ছিল এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত যথেষ্ট রয়েছে এবং তারা এ ধরনের সংকটে পড়েনি। তা সত্ত্বেও, ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, ইরান এই যুদ্ধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে তাদের সেজিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে। ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপের পর লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় যেকোনো মুহূর্তে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। ফলে প্রচলিত রাডার ব্যবস্থা এর গতিপথ নির্ধারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ, এটি শুধু দিক পরিবর্তনই করে না, বরং এতে অ্যান্টি-রাডার প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাডারের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঠিক আগে এটি অতিসonic গতিতে পৌঁছে যায়, ফলে প্রতিরোধের সময়সীমা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক একাধিক হামলায় তারা পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও চাপে ফেলেছে।
সার্বিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যদি এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তবে ইসরায়েলের জন্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ ও পুনঃমজুত একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।