খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হুথি-সম্পৃক্ত আল মাসিরাহ টিভি শনিবার (১৬ আগস্ট) জানিয়েছে, এই ‘আগ্রাসনে’ হেজইয়াজ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সানার বাসিন্দারাও অন্তত দুটি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, ওই স্থাপনাটি হুথি যোদ্ধাদের ব্যবহৃত ঘাঁটি ছিল। তবে তারা বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানার যৌক্তিকতা প্রমাণে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। এ কারণে এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রবিবার ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, এই আক্রমণটি হুথিদের বারবারের হামলার জবাব। এর মধ্যে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও রয়েছে।
ইয়েমেনের উপপ্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, বিস্ফোরণের পর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। তবে জরুরি কর্মীরা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আরও বড় ক্ষতি প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে হুথিরা গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের জবাবে একাধিকবার ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবে ইসরায়েলও ইয়েমেনের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। একই অভিযোগে দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
যদিও ইসরায়েলের দিকে নিক্ষিপ্ত অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে, তবুও এই পাল্টা হামলা গাজার যুদ্ধকে আরও আঞ্চলিক পর্যায়ে বিস্তৃত করছে।
শুধু ইসরায়েল নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে। কারণ, হুথিরা লোহিত সাগর দিয়ে যাতায়াতকারী ইসরায়েল-সম্পর্কিত জাহাজে আক্রমণ করেছে। হুথিদের দাবি, ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং গাজা অবরোধের প্রতিশোধ নিতেই এসব হামলা চালানো হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যকেও ব্যাহত করছে।
তবে চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও হুথিদের মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। এর শর্ত ছিল—হুথিরা লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত জাহাজে হামলা বন্ধ করবে, বিনিময়ে মার্কিন বাহিনী ইয়েমেনে বোমা বর্ষণ বন্ধ রাখবে। যদিও হুথিরা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই সমঝোতা তাদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযানে কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।
খবরওয়ালা/এসআই