খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত, দুর্বল অর্থনীতি, দুর্নীতি এবং প্রকৃতির চরম প্রতিকূলতা—এসবের মধ্যেও ইরাকের ফুটবলপ্রেমীরা নতুন আশা খুঁজে পেয়েছে। দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা তাদের মধ্যে উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের ঢেউ তুলে দিয়েছে। এই উন্মাদনা প্রত্যক্ষ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্রাহাম আরনল্ড, যিনি ইরাক জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এক অনিশ্চিত সময়ে।
ইরাক ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক প্লে-অফের ফাইনালে পৌঁছেছে। তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া। ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মন্টেরিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে জয়লাভ করলে, ইরাক ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে। এই জয়ে কোচ আরনল্ড ইতিহাসে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে দুটি ভিন্ন দলের বিশ্বকাপ কোচিং করার কীর্তি রচনা করবেন।
কোচ আরনল্ড বলেন, “৪০ বছর ধরে ইরাক বিশ্বকাপে ওঠেনি। তাই আমার দায়িত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রচণ্ড চাপ। বিশেষ করে যখন ৪৬ মিলিয়ন মানুষ ফুটবলের জন্য পাগলপ্রায় উন্মাদ। আমি চাই খেলোয়াড়রা খেলার প্রতি একাগ্র থাকুক এবং বাইরের কোনো চাপ যেন তাদের প্রভাবিত না করে।”
ইরাকের দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনিয়মিত থাকা মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ দেশের খেলাধুলার গতিকে দীর্ঘদিন ব্যাহত করেছে। যদিও ২০০৭ সালে এশিয়ান কাপ জয় অর্জন করে দেশটি ফুটবলে স্বীকৃতি পায়, তার পরেও স্থায়ী সাফল্য আসেনি।
কোচ আরনল্ড খেলোয়াড়দের সামাজিক মাধ্যম ও বাইরের প্রভাব থেকে দূরে রাখেন, যাতে তারা একমাত্র খেলার প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে। নভেম্বর ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে স্টপেজ টাইমে হারানোর পর পুরো দেশ আনন্দে উদ্দীপ্ত হয়েছিল। আরনল্ড বলেন, “বাগদাদে মানুষ রাস্তায় নেমে পতাকা হাতে উদযাপন করেছে। তাদের আবেগ এতটাই প্রবল যে, খেলোয়াড়রাও দেশের জন্য নিজেদের সম্পূর্ণ নিয়োজিত করছে।”
নিচের টেবিলে ইরাকের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| জাতীয় দলের কোচ | গ্রাহাম আরনল্ড (অস্ট্রেলিয়ান) |
| ফাইনাল প্রতিপক্ষ | বলিভিয়া |
| ফাইনাল তারিখ ও স্থান | ৩১ মার্চ, মন্টেরি, মেক্সিকো |
| শেষ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ | ১৯৮৬ |
| দেশের জনসংখ্যা | ৪৬ মিলিয়ন |
| প্লে-অফ জয় | সংযুক্ত আরব আমিরাত (স্টপেজ টাইম গোল) |
| কোচিং ইতিহাস | অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দল, ২০০৫ বিশ্বকাপ |
এখন ইরাকের ফুটবলপ্রেমীরা উৎসাহ ও আশা নিয়ে বাঁচছে। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা তাদের জীবনে নতুন আলো আনছে। কোচ আরনল্ডও এই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে খেলোয়াড়দের উৎসাহ, দেশপ্রেম ও সমর্থন প্রত্যক্ষ করছেন। দেশের মানুষ এখন ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনের জন্য প্রস্তুত, যেখানে ফুটবল কেবল খেলা নয়, এটি জাতীয় গৌরবের এক অম্লান প্রতীক।