খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তেহরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এই পদক্ষেপকে অনেক বিশেষজ্ঞ দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। মূলত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, এই শিথিলতা শুধুমাত্র বর্তমানে সমুদ্রপথে তেহরান থেকে বোঝাই করা অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য প্রযোজ্য। এই নির্দেশনা আগামী ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বেসেন্ট আরও জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত, জাপান ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের জন্য ইরানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিথিলতা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর তাত্ক্ষণিক প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা খুব কম। বরং এটি ইরানি সরকারকে অর্থ আয় করে যুদ্ধে পুনঃব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকস্টোন কমপ্লায়েন্স সার্ভিসেসের পরিচালক ডেভিড ট্যানেনবাম বলেছেন, “সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি একটি উদ্ভট ব্যাপার। আমরা ইরানকে তেল বিক্রির অনুমতি দিচ্ছি, যা পরবর্তীতে যুদ্ধে অর্থায়নে ব্যবহৃত হতে পারে।”
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাহাজ চলাচল ও তেলের উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। ইরান থেকে তেলের প্রধান ক্রেতা ছিল চীন, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনকে এই তেল কম দামে কিনতে হতো। এখন শিথিলতার মাধ্যমে চীনকেও বাজারমূল্য অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
নিচের টেবিলে এ সম্পর্কিত প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| অনুমোদিত তেল | সমুদ্রপথে বোঝাই করা অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য |
| অনুমোদনের মেয়াদ | শুক্রবার থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত |
| প্রভাবিত দেশসমূহ | ভারত, জাপান, মালয়েশিয়া, চীন |
| তেলের মূল ক্রেতা (যুদ্ধ পূর্ব) | চীন |
| অনুমোদনের উদ্দেশ্য | আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা ও দাম স্থিতিশীল রাখা |
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “দাম অপরিবর্তিত রাখতে যা যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।” তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শিথিলতা জ্বালানি মূল্য স্থিতিশীল করতে তেমন কার্যকর হবে না।
একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার তেলের ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে এবং নিজেদের মজুদ তেলের বড় অংশ বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু বাজারে দামের ওপর তা খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোটের ওপর, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত বিশ্বজ্বালানি বাজারের জন্য স্বল্পমেয়াদে সহায়ক হলেও, ইরানকে অর্থায়ন করার সম্ভাবনা সৃষ্টি করায় এটি বিতর্কিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন।