খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল হাইফা, তেল আবিব ও জেরুজালেমের সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই হামলাকে যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মঙ্গলবার রাতে ‘খোরামশাহর’ নামের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র দ্বিতীয়বারের মতো হামলার লক্ষ্য হয়েছে। এছাড়া হাইফা, পশ্চিম জেরুজালেম ও বীর ইয়াকুবের সামরিক স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, তারা ইরাকের এরবিল শহরে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরকেও নিশানা করেছে। এই হামলা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে, ইসরায়েলীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, একটি তেলক্ষেত্রের দিকে যাচ্ছিল এমন দুটি ড্রোন তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।
| হামলার লক্ষ্য | দেশ/শহর | ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র | তেল আবিব, ইসরায়েল | খোরামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র | দ্বিতীয়বার লক্ষ্যবস্তু |
| সামরিক স্থাপনাগুলো | হাইফা, পশ্চিম জেরুজালেম, বীর ইয়াকুব, ইসরায়েল | খোরামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র | গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা |
| মার্কিন ঘাঁটি | এরবিল, ইরাক | খোরামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র | আঞ্চলিক মার্কিন উপস্থিতি নিশানা |
| নৌবহরের সদর দপ্তর | মানামা, বাহরাইন | খোরামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র | পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য |
| তেলক্ষেত্র | সৌদি আরব | ড্রোন | আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে |
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার পরিধি ও তাদের আঞ্চলিক প্রভাব প্রদর্শনের লক্ষ্য বহন করে। এছাড়া এটি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
এই হামলার পর ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সতর্ক হতে দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছেন।
এই রিপোর্ট থেকে বোঝা যায়, সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আরও জটিল রূপ নিচ্ছে, যা সারা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।