খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির স্থানীয় সময় শুক্রবার (২০ মার্চ) ঘোষণা করেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান ‘গুটিয়ে নেওয়ার’ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছেন। একই সময়ে, বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ সংকট রোধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসন সাময়িকভাবে ইরানি তেল চালানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। তাই আমরা মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছি।” বিশেষজ্ঞরা এটিকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতা শিগগিরই শেষ হওয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক্সে বলেন, প্রেসিডেন্ট এবং পেন্টাগন পূর্বাভাস করেছিলেন যে এই মিশন সম্পন্ন করতে আনুমানিক ৪–৬ সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির উদ্বেগ বাড়ায় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ২০ মার্চ থেকে জাহাজে বোঝাই করা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এই অনুমোদন ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি তার দেশের শত্রুদের ওপর ‘চরম আঘাত’ হানার আহ্বান জানানোর পর, ইরান সৌদি আরব ও ইসরাইলে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। প্রতিক্রিয়ায়, শনিবার (২১ মার্চ) ভোরে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তেহরানে শাসকগোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
ট্রাম্প শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন এখন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নয়।” বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য বিশ্বকে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন আর সরাসরি ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন হামলা চালাবে না।
নিচের টেবিলটিতে সাম্প্রতিক ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| তারিখ | ঘটনা | দেশ/প্রতিবাদকারী | লক্ষ্য |
|---|---|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | যৌথ আগ্রাসন শুরু | যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল | ইরান |
| ২০ মার্চ | সামরিক অভিযান স্থগিতের ইঙ্গিত | মার্কিন প্রেসিডেন্ট | মধ্যপ্রাচ্য |
| ২০ মার্চ | ইরানি তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল | মার্কিন ট্রেজারি | বৈশ্বিক তেল সরবরাহ |
| ২০–২১ মার্চ | ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | ইরান | সৌদি আরব, ইসরাইল |
| ২১ মার্চ | ইসরাইলি বিমান হামলা | ইসরাইল | তেহরানের লক্ষ্যবস্তু |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সীমিত করতে পারে এবং তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। তবে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সেকেন্ডারি সংঘাতের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।
এই সিরিজের ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে তেল বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।