খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে নতুন এক যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ।
রুশ সংবাদমাধ্যমে মেদভেদেভ বলেন, ‘শান্তির দূত হিসেবে আসা ট্রাম্প এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন যুদ্ধ শুরু করলেন। এই সাফল্য নিয়ে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা অক্ষত রয়েছে এবং সম্ভবত আরও শক্তিশালী হয়েছে। এমনকি যারা খামেনিকে সমর্থন করতেন না, তারাও এখন ধর্মীয় নেতৃত্বের ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন।’
মেদভেদেভের মতে, মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র এখন স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্রেমলিন আগেই ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছিল যে ইরানে মার্কিন হামলা পুরো অঞ্চলকে ‘অন্ধকারের খাদের’ দিকে ঠেলে দেবে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও খামেনেইকে হত্যার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
পুতিন বলেছেন, ইসরায়েল মস্কোকে আশ্বস্ত করেছে যে বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় রাশিয়ান প্রকৌশলীদের কোনো ক্ষতি হবে না।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে এর জবাব দিতে হবে।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এখনই স্পষ্ট যে একটি বিপজ্জনক উত্তেজনা শুরু হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করছে।’
রাশিয়ার ভেতর থেকে ইরানকে সহায়তা দেওয়ার দাবিও উঠেছে। ব্যবসায়ী কনস্তানতিন মালোফেয়েভ বলেছেন, ‘এখন সময় হয়েছে তেহরানকে সহায়তা করার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে শান্তি আলোচনায় আনতে বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাবও দিতে হবে।’
রাশিয়ার কারাবন্দি জাতীয়তাবাদী ইগর গিরকিন সতর্ক করেছেন, ‘যদি রাশিয়া ও চীন ইরানকে যথেষ্ট সমর্থন না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং বিশৃঙ্খলায় ঠেলে দেবে।’
খবরওয়ালা/এন