খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে ঘিরে রিপাবলিকান দলের ভেতরে স্পষ্ট বিভাজনের চিত্র ফুটে উঠেছে। মার্কিন আইনপ্রণেতা ও রিপাবলিকান নেতা ন্যান্সি মেস সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ‘যদি আমরা মেরিন ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন নিয়ে প্রচলিত স্থল অভিযান চালাই, তবে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধেরূপ নেবে। এমন পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অনুমোদন থাকা উচিত এবং জনগণকে যথাযথ তথ্য দেওয়া উচিত।’
মেসের এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে এক মাস ধরে চালানো আকাশযুদ্ধের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থল অভিযান নিয়ে ভাবছেন। পেন্টাগনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার মার্কিন সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে সমবেত করেছে, যা সংঘাতকে নতুন ও বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করাচ্ছে।
রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড জানিয়েছেন, ‘যদি এটি বিশেষ বাহিনী পরিচালিত কোনো সীমিত অভিযান হয়, যাদের কার্যভার সম্পন্ন করতে পাঠানো হবে এবং কাজ শেষ করে বেরিয়ে আসবে, তা দীর্ঘমেয়াদি দখলের চেয়ে ভিন্ন। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে সংঘাত শুরু করা এবং তা অসম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া। আমাদের অবশ্যই সক্ষমতা থাকতে হবে এটি সম্পূর্ণভাবে শেষ করার।’
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এবং পদাতিক সেনারা সীমিত আকারে স্থল অভিযান চালাবে। তবে ট্রাম্প পেন্টাগনের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। গত রোববার ইউএসএস ট্রিপোলি যুদ্ধজাহাজের নেতৃত্বে ৩,৫০০ মার্কিন সেনা ও মেরিন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার অবস্থান ও সামরিক খরচ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সাধারণ সেনা সংখ্যা | ৫০,০০০ (মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঘাঁটিতে) |
| সাম্প্রতিক মোতায়েন | ৩,৫০০ সেনা ও মেরিন |
| বার্ষিক সামরিক বাজেট | ১ লাখ কোটি ডলার |
| অতিরিক্ত তহবিল অনুরোধ | ২০,০০০ কোটি ডলার |
ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর কোরি বুকার মন্তব্য করেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আমাদের এমন সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।’ মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের অবৈধ যুদ্ধে অর্থায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও অনিরাপদ করছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন সৈন্যের প্রাণহানি ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং তেলের দামও বেড়েছে।’
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ‘পেন্টাগনের প্রস্তুতি সর্বোচ্চ বিকল্প রাখতে, তবে প্রেসিডেন্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।’ ট্রাম্প বারবার জানিয়েছেন, তিনি সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন।
এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানে মার্কিন স্থল অভিযান সম্ভাব্যভাবে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। কংগ্রেসের অনুমোদন, সীমিত অভিযানের ব্যাখ্যা ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা ছাড়া এটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।