খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
মার্কিন বিমান হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে ইরান। দেশটি মার্কিন দাবির বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো অবস্থানে আর নেই। আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের কাছ থেকে যা খুশি তাই পাবেন।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে অসাধারণ সাফল্য হয়েছে আমাদের। তারা খুশি হতে পারেনি, এত বোমাবর্ষণ হয়েছে যে, তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। কেউ সেখানে পৌঁছাতেও কয়েক বছর সময় লাগবে।
তেহরানের সঙ্গে আমেরিকার পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, (সফল হামলার পরে) এটি কোনো অগ্রাধিকার নয়। কিন্তু ইরানের কাছ থেকে আমরা যা চাইব তা আমরা পাব।
তিনি বলেন, আমি মনে করি এবং আশা করি তারা একটি ভালো দেশ পেতে চায়। আপনি জানেন, তারা এখন বিশাল নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার অধীনে তাদের জন্য কিছু করা খুব কঠিন। আমি হয়তো এমন একটি সময়ের অপেক্ষায় আছি যখন আমরা একসঙ্গে থাকতে পারব এবং তারা তাদের দেশ পুনর্গঠন করতে পারবে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, আমি মনে করি না যে, এত তাড়াতাড়ি আবার আলোচনা শুরু হবে; কিন্তু কূটনীতির দরজা কখনই বন্ধ হবে না।
অথচ মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফ ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় মাধ্যমেই আলোচনা চলছে বলে জানান।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ইসরায়েলকে মোকাবিলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনো অটুট রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সিনিয়র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদি।
জেনারেল আহমাদ ভাহিদি বলেন, ইসরায়েলের জবাব দিতে এখনো চমৎকার অবস্থায় রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি। ইসরায়েল আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।ইসরায়েলের জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে শত্রুদের নিষ্ঠুর জবাব দিতেও প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইসরায়েলে কমপক্ষে ৩১ হাজার ভবন ও ৪ হাজার যানবাহন সম্পূর্ণ ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-কে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করে, চলমান সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলে অভাবনীয় ও অপূরণীয় ধ্বংস এনেছে।
খবরওয়ালা/টিএস