খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৮ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ১৯৯২ সাল থেকে ইরানের ‘পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি’ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আসছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তার একটি পরিচিত বক্তব্য প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালে নেতানিয়াহু যখন ইসরায়েলের পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন তেহরান পারমাণবিক বোমা অর্জন থেকে মাত্র কয়েক বছর দূরে।
তিনি সেই সময়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে, আমরা ধরে নিতে পারি ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি এবং উৎপাদনের ক্ষমতায় স্বায়ত্তশাসিত হয়ে উঠবে।’ পরবর্তীতে তার ১৯৯৫ সালে নেতানিয়াহু তার লেখা বই, ‘ফাইটিং টেরোরিজম’-এ একই কথার পুনরাবৃত্তি করেন।
নেতানিয়াহুর এই অনুভূতি বারবার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার যোগাযোগকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলেছে।
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরাক-ইরান দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দৌড়ে রয়েছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালালেও সেখানে কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২০০৯ সালে উইকিলিকসে প্রকাশিত এক মার্কিন কূটনৈতিক বার্তায় উঠে আসে, কংগ্রেস সদস্যদের কাছে নেতানিয়াহু বলেছেন—ইরান মাত্র এক-দুই বছরের মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করবে।
২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কুখ্যাত সেই বোমার কার্টুন দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন, পরবর্তী বসন্ত বা সর্বোচ্চ গ্রীষ্মের মধ্যেই তারা মধ্য-পর্যায়ের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ শেষ করে চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করবে।
এখন, নিজের প্রথম সতর্কবার্তার ৩৩ বছর পরেও নেতানিয়াহু একই দাবি করছেন—‘যদি থামানো না হয়, তাহলে ইরান খুব দ্রুত, এমনকি মাস বা সপ্তাহের মধ্যেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।’
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ২০২৫ সালের মার্চে মার্কিন কংগ্রেসে বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাচ্ছে না এবং তাদের সর্বোচ্চ নেতা ২০০৩ সালে সেই কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
এই বছরের শুরুতেও মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক বিবৃতি দিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। তা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর এই দাবিগুলো অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
খবরওয়ালা/এন