খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে চৈত্র ১৪৩২ | ২২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলার সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। 이에 ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপোরেশন (আইআরজিসি) ও সেনাবাহিনী পাল্টা হুমকি প্রদান করেছে। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি মার্কিন হুমকিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেছেন।
মুখপাত্র জোলফাগারি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালি শত্রুপক্ষের যাতায়াতের জন্য বন্ধ করা হয়েছে, তবে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য নির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে ‘নিরাপদ যাতায়াত’ এখনো অনুমোদিত।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর হামলা চালায়, তবে ইরানও প্রতিহত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আইআরজিসির তালিকাভুক্ত সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিম্নরূপ:
| প্রতিক্রিয়ার ধরণ | বিস্তারিত বিবরণ | প্রভাব |
|---|---|---|
| হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ | বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে প্রণালিটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে, ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্র পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত চালু হবে না | আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও তেল রপ্তানিতে বড় বাধা |
| ইসরায়েলকে লক্ষ্য | ইসরায়েলের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা | মধ্যপ্রাচ্যে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধ্বংস |
| যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ধ্বংস | যেসব মার্কিন শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করা হবে | অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতি |
| প্রতিবেশী দেশে হামলা | যেখানে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র বৈধ লক্ষ্যবস্তু | আঞ্চলিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অস্থিতিশীলতা |
বিশ্লেষকদের মতে, এই উত্তেজনা শুধু দ্বিপাক্ষিক সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ বন্ধ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা অঞ্চলজুড়ে অন্ধকার ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি করতে পারে।
গতকাল শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করেন, যেখানে হুমকি দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, যদি তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় আঘাত হয়, তবে ইসরায়েলসহ মার্কিন ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস করা হবে।
সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই উত্তেজনা অব্যাহত থাকে, তবে সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।