খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে পৌষ ১৪৩২ | ১২ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসে এক নতুন ও ব্যতিক্রমী পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ইরানি কর্তৃপক্ষ কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। উত্তরে ইরান মার্কিন স্বার্থ এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের আন্দোলনের বিস্তৃতি, তীব্রতা ও গতিশীলতা আগের সব আন্দোলনের চেয়ে ভিন্ন। সমাজবিজ্ঞানী এলি খোরসান্দফার জানিয়েছেন, বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহরগুলিতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, যেগুলোর নাম অনেকের কাছে অজানা ছিল।
| আন্দোলন | সাল | প্রধান এলাকা | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|---|
| গ্রিন মুভমেন্ট | ২০০৯ | বড় শহর, মধ্যবিত্ত | সীমিত বিস্তৃতি, রাজনৈতিক চাপ |
| ২০১৭-২০১৯ আন্দোলন | ২০১৭-২০১৯ | দরিদ্র এলাকা | অর্থনৈতিক অসন্তোষ, ক্ষুদ্র শহর |
| মাহশা আমিনি বিক্ষোভ | ২০২২ | দেশজুড়ে | নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি |
| চলমান আন্দোলন | ২০২৫-২০২৬ | দেশজুড়ে, বড় ও ছোট শহর | দীর্ঘস্থায়ী, মধ্যবিত্ত ও নারীর সরাসরি অংশগ্রহণ |
২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে তেহরানে ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট শুরু হয়। খুব দ্রুত এটি দেশের পশ্চিমাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে মধ্যবিত্ত শ্রেণিও আন্দোলনে যোগ দেয়। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান দিয়ে সরাসরি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার সরকারের অপসারণ দাবি করছে।
নির্বাসিত ইরানি নেতা রেজা পাহলভির আহ্বানও আন্দোলনে প্রভাব ফেলেছে। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেয়ে ইসলামি শাসনের বিকল্প নেতৃত্বের অভাব থেকে জন্ম নেওয়া হতাশার বহিঃপ্রকাশ।
এবারের আন্দোলনের আরেকটি বিশেষ দিক হলো আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব। ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং হুমকি আগের কোনো আন্দোলনে দেখা যায়নি। একই সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থান দুর্বল হওয়ায় তেহরান আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মুখে।
বিশেষভাবে, নারীরা এবার প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, যা ইরানের দমনমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অভূতপূর্ব আন্দোলন ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।