খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ মে ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে সিরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠকের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে এক অঘোষিত বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বৈঠকে ট্রাম্প সিরিয়াকে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আলোচিত আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষরের আহ্বান জানান, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বুধবার (১৪ মে) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি অঘোষিত বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আল-শারা। এই বৈঠকটি রিয়াদে গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয়। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফোনের মাধ্যমে আলোচনায় যুক্ত হন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সিরিয়া এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ট্রাম্প সিরিয়ার কাছে যেসব শর্ত রেখেছেন, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্প বৈঠকে আরও দাবি জানান সিরিয়া যেন সব বিদেশি সন্ত্রাসীকে বহিষ্কার করে, ফিলিস্তিনি সন্ত্রাসীদেরও দেশ থেকে বের করে দেয়, আইএসের পুনরুত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে এবং উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আইএস বন্দিশিবিরগুলোর দায়িত্ব নেয়।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটি তাদের জন্য একটি বড় সুযোগ। এবং এটি আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা এখন সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করছি।’
৪২ বছর বয়সী আহমেদ আল-শারা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আল-কায়েদার যোদ্ধা ছিলেন। পরে ২০১২ সালে সিরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী নুসরা ফ্রন্ট প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০১৬ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। বর্তমানে তিনি নিজেকে সিরিয়ার ধর্মীয় সহনশীলতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করছেন—যেখানে খ্রিষ্টান, আলাউই ও দ্রুজসহ সংখ্যালঘুরা বসবাস করে।
ট্রাম্প একইসঙ্গে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য। তিনি বলেছেন, ‘যদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এটি করেন, তবে তা আমার জন্য বড় সম্মান হবে।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের শাসনামলে ২০২০ সালে তাঁর জামাতা ও তৎকালীন উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের মধ্যস্থতায় আব্রাহাম অ্যাকর্ডস স্বাক্ষরিত হয়। প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এতে অংশ নেয়, পরে মরক্কো ও সুদানও যুক্ত হয়।
তবে সিরিয়ার স্বীকৃতি একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি হবে, বিশেষ করে যখন তুরস্ক—আল-শারার অন্যতম সমর্থক দেশ—ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকারের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে রয়েছে।
এ ছাড়া, ইসরায়েল সম্প্রতি সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে বসবাসরত দ্রুজ সম্প্রদায়ের নাগরিকদের রক্ষা করতে চেয়েছে বলে দাবি করেছে। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালে সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়, এবং ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইসরায়েলের ওই দখলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছিলেন—যা আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট
খবরওয়ালা/আরডি