খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পুরোদমে। নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে ট্রেন ও বাসের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহের জন্য গতকাল বুধবারও ছিল ব্যাপক হুড়াহুড়ি। বিশেষ করে ট্রেনের টিকিটের ক্ষেত্রে অনলাইনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন লাখ লাখ মানুষ। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ১১ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। অন্যদিকে, বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কাউন্টারগুলোতে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও যাত্রীদের পকেট কাটার অভিযোগ ছিল চরমে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও ঈদযাত্রার শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। গতকাল সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট (১৪ মার্চের জন্য) ছাড়ার সাথে সাথেই সার্ভারে ট্র্যাফিকের সুনামি বয়ে যায়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, টিকিট বিক্রির প্রথম আধাঘণ্টায় সার্ভারে ভিজিট করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ বার। অর্থাৎ, সীমিত সংখ্যক টিকিটের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী থাকায় আক্ষরিক অর্থেই এক সেকেন্ডের ব্যবধানে টিকিট উধাও হয়ে যাচ্ছিল।
ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানান, সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যেই পশ্চিমাঞ্চলের ১১ হাজার ৪০০ টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবার দুই শিফটে টিকিট দেওয়া হচ্ছে; সকাল ৮টায় পশ্চিমাঞ্চল এবং দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলের টিকিট উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
| পরিবহনের মাধ্যম | টিকিট বিক্রির সময়/ধরণ | বর্তমান পরিস্থিতি ও তথ্য |
| রেলওয়ে (পশ্চিমাঞ্চল) | সকাল ৮টা থেকে (অনলাইন) | ৩০ মিনিটে ১১,৪০০ টিকিট বিক্রি; ২০ লাখ হিট। |
| রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) | দুপুর ২টা থেকে (অনলাইন) | চাহিদার তুলনায় টিকিটের সংকট প্রবল। |
| দূরপাল্লার বাস | কাউন্টার ভিত্তিক অগ্রিম বিক্রি | ১৭ ও ১৮ মার্চের রাতের টিকিট প্রায় শেষ। |
| ভাড়া পরিস্থিতি | বাসে অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ | স্বাভাবিকের চেয়ে ২০০-৫০০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ। |
| যাত্রী নিরাপত্তা | স্টেশন ও টার্মিনাল কেন্দ্রিক | নিরাপত্তা জোরদার ও কালোবাজারি রোধে নজরদারি। |
রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলী এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে গতকাল ছিল অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিনের তুলনায় গতকাল কাউন্টারগুলোতে ভিড় কিছুটা কম দেখা গেছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগের শেষ দুই দিনের (১৭ ও ১৮ মার্চ) রাতের বাসের টিকিট প্রায় ৯০ শতাংশই বিক্রি হয়ে গেছে। বর্তমানে কেবল দিনের বেলার কিছু টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে।
তবে যাত্রীদের প্রধান অভিযোগ ছিল ভাড়ার লাগামহীন বৃদ্ধি নিয়ে। দিনাজপুরের যাত্রী সাব্বির হোসেন অভিযোগ করেন, সাধারণ সময়ে যে স্লিপার বাসের ভাড়া ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা, ঈদ উপলক্ষে সেটি প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। ঠাকুরগাঁওগামী যাত্রী ফরহাদ উদ্দিন জানান, ৯০০ টাকার টিকিট তাকে কিনতে হয়েছে ১,০৮০ টাকায়। সরকারিভাবে নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে পরিবহন মালিকরা ইচ্ছামতো দাম হাঁকাচ্ছেন বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে।
বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, অগ্রিম টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার পর কালোবাজারি চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শতভাগ অনলাইন পদ্ধতি চালু করলেও সার্ভারে প্রবেশ করতে না পেরে অনেক সাধারণ যাত্রী বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, বাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়ার দৌরাত্ম্য বন্ধে মোবাইল কোর্টের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এবারের ঈদে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে যাওয়া মানুষের সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার ফলে পরিবহন খাতে চাপের পরিমাণও হবে নজিরবিহীন।