ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরার আনন্দ, নাড়ির টানে ছুটে চলা মানুষের আবেগ—সবকিছুর সঙ্গে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে গেছে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গানটি। একসময় একটি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, সময়ের প্রবাহে এটি রূপ নিয়েছে দেশের মানুষের অনুভূতির প্রতীকী সঙ্গীতে। বিশেষ করে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ সংস্করণটি ঈদ এলেই সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় আসে। এই সংস্করণে কণ্ঠ দেওয়া শিল্পী মিঠুন চক্রের কাছে গানটি কেবল একটি সৃষ্টিই নয়, বরং জীবনের এক বড় অর্জন।
এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্র বলেন, “এই গানটি আমার জন্য দ্বিতীয় জন্মের মতো।” তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর জীবনে এমন একটি গান পাওয়া বিরল সৌভাগ্য, যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। যদিও অনেক শ্রোতা এখনো জানেন না যে গানটি তার কণ্ঠে গাওয়া, তবুও এতে তার কোনো দুঃখ নেই। বরং তিনি এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তার মতে, একটি গান যখন সবার হয়ে যায়, তখন সেটিই শিল্পীর প্রকৃত সার্থকতা।
গানটির পেছনের গল্পে রয়েছে চমকপ্রদ এক মোড়। শুরুতে মিঠুন চক্রের এই গানে কণ্ঠ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না। সংগীত পরিচালক হাবিব ওয়াহিদের আগ্রহেই তিনি এতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গানটি অনুমোদন দেয় এবং প্রকাশের পর এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। একটি সাধারণ ডেমো কণ্ঠ কীভাবে একটি জাতীয় আবেগে রূপ নিতে পারে—এই গান তারই উদাহরণ।
নিচে গানটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বিবরণ |
| প্রথম প্রকাশ |
২০০৯ সাল |
| দ্বিতীয় সংস্করণ |
২০১৬ সাল |
| সুর ও সংগীতায়োজন |
হাবিব ওয়াহিদ |
| গীতিকার |
রাসেল মাহমুদ |
| কণ্ঠশিল্পী |
মিঠুন চক্র |
| বিশেষত্ব |
ঈদে ঘরে ফেরার আবেগের প্রতীক |
সংগীতজীবনের বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে মিঠুন চক্র জানান, তিনি এখন গান নিয়েই আরও গভীরভাবে কাজ করতে চান। দীর্ঘদিন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও, গায়ক হিসেবে নিজের পরিচয়কে আরও শক্ত করতে চান তিনি। তার নিজস্ব উদ্যোগ ‘আর্ট অব চক্র’-এর মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে গান করার স্বপ্নও তার অনেক দিনের।
বাদ্যযন্ত্র বিষয়ে তিনি বলেন, তার কাছে শরীরটাই যেন একটি সম্পূর্ণ যন্ত্র। ছন্দভিত্তিক নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রে তার দক্ষতা রয়েছে। যদিও সুরভিত্তিক যন্ত্রে তিনি তুলনামূলক কম স্বচ্ছন্দ, তবুও শেখার আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। তার বিশ্বাস, নিষ্ঠা ও ভালোবাসা থাকলে সংগীতের প্রতিটি দিক আয়ত্ত করা সম্ভব।
বর্তমানে তিনি বিভিন্ন সংগীত আয়োজন, চলচ্চিত্রের গান এবং জনপ্রিয় সংগীতভিত্তিক একটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ঈদ উপলক্ষে তার নতুন গান মুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে, যা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
সবশেষে, নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি শ্রোতাদেরই দেন। তার মতে, মানুষের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে সঙ্গী করেই ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মিঠুন চক্র।