খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ৫ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঈদুল ফিতরের উৎসব উপলক্ষে দেশের সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকার পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছে। সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভার পর জানিয়েছেন, “ঈদযাত্রার সময় কোনো অবস্থাতেই সড়কে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাই এই বিষয়ে তৎপর।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “মনিটরিং করা হচ্ছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম চলমান। হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা তৎপর। স্থানীয় প্রশাসন, বিশেষ করে সড়ক-মহাসড়ক অধীনের থানা ও জেলা পুলিশ সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে। পরিবহন শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রতিটি অনৈতিক কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হচ্ছে। ফলে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “পরিবহন খাতে যারা জড়িত, তারা সবাই দায়িত্ব নিয়েছেন যাতে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়। কোনো ধরনের অতিরিক্ত চার্জ, চাঁদাবাজি বা অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা শূন্যের কোঠায় থাকবে।”
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ঈদ উপলক্ষে এই বছর দেশের সব সড়ক ও মহাসড়ক, রেল স্টেশন এবং নদীপথে যাত্রী সেবা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন, হাইওয়ে পুলিশের তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি, এবং নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি।
নিচের সারণিতে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নেওয়া প্রধান উদ্যোগগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা |
|---|---|
| মনিটরিং ব্যবস্থা | ভ্রাম্যমাণ আদালত ও হাইওয়ে পুলিশ সক্রিয় |
| স্থানীয় প্রশাসন | থানার অধীনে পুলিশ ও জেলা প্রশাসন দায়িত্বশীল |
| পরিবহন শ্রমিকদের অংশগ্রহণ | অতিরিক্ত চার্জ বা অনৈতিক সুবিধা না নেওয়া নিশ্চিত |
| যাত্রী সেবা | সড়ক, রেলপথ ও নৌপথে নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | সড়ক-মহাসড়ক, রেল স্টেশন ও নৌপথে তল্লাশি বৃদ্ধি |
| ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা | আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও ব্যবস্থা গ্রহণ |
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, “ঈদযাত্রার সময় যাত্রীদের সুরক্ষা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অনৈতিক চাঁদাবাজি, অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রীদের বিরূপ পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিটি পর্যায়ে তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। প্রতিটি জেলা ও থানার সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও হাইওয়ে পুলিশ নজরদারি করবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রস্তুতি ও কঠোর নজরদারি ঈদযাত্রার সময় সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বা অসুবিধা কমাবে। পাশাপাশি পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের যাত্রাপথে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের ফলে ঈদুল ফিতরের দিনে দেশের যাত্রী ও পরিবহন খাতের সব অংশগ্রহণকারীর জন্য একটি নিরাপদ, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন যাত্রার পরিবেশ নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।