খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: ২০১৫ সালের পর ব্যাংককের বন্দিশালায় ১০ বছর ধরে আটক থাকা ৪০ উইঘুর মুসলিম নাগরিককে চীনে ফেরত পাঠিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের সতর্ক উপেক্ষা করে থাইল্যান্ডের সরকারের নেওয়া এ বিতর্কিত সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিবিসির প্রতিবেদন মতে, ব্যাংককের একটি আটক কেন্দ্রে প্রায় এক দশক ধরে বন্দি ছিল উইঘুর মুসলিমদের একটি গ্রুপ। যাদেরকে ২০১৩ সালে আটক করা হয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তাদেরকে একটি চার্টার্ড বিমানে করে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেখানে চীনা কর্তৃপক্ষের হাতে তাদের কঠোর নিপীড়নের আশঙ্কা রয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এই পদক্ষেপকে ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও মানদণ্ডের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার রক্ষার ঐতিহ্যের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘উইঘুরদের আশ্রয় দেয়া উচিত, তাদের জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।’
উইঘুররা মূলত চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জিনজিয়াং অঞ্চলের তুর্কিভাষী মুসলিম সংখ্যালঘু, যারা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়নের শিকার। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা চীনের এই আচরণকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারও জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের প্রতি চীনের আচরণকে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
চীন থেকে পালিয়ে আসা উইঘুরদের বিষয়টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য স্পর্শকাতর ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর আগেও থাইল্যান্ড বিতর্কিতভাবে উইঘুরদের চীনে ফেরত পাঠিয়েছে। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে থাইল্যান্ড শতাধিক উইঘুর বন্দিকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে চীনে ফেরত পাঠিয়েছিল, যা তখনও বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় তোলে।
থাইল্যান্ডের এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করলো যে উইঘুর মুসলিমদের মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা জরুরি। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ও বিশ্বনেতাদের উচিত উইঘুরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
খবরওয়ালা/টিএ