খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) নির্বাচনী এলাকায় ভোট প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্বাচনী প্রচারণার তুঙ্গে থাকা এই আসনে দুই মিত্র শক্তির এমন মুখোমুখি অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তবে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর একদল নারী কর্মী তেঁতুলিয়া গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছিলেন। প্রচারণার এক পর্যায়ে তাঁরা ওই গ্রামের এক সক্রিয় বিএনপি সমর্থকের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং সেখানে উপস্থিত নারীদের কাছে নিজেদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চান। এই সময় উভয় পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও তর্কবিতর্ক শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই সংবাদ গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
গ্রামের উত্তেজনার খবর পেয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় পুরুষ নেতাকর্মীরা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কার নিয়ে তেঁতুলিয়া গ্রামের দিকে রওনা হন। অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল বিক্ষুব্ধ লোক (যাঁদের বিএনপি সমর্থক হিসেবে দাবি করা হচ্ছে) তাঁদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় জামায়াত নেতাকর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেট কার এবং একটি মোটরসাইকেল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার মুখে নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বর্তমান চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান অবস্থা |
| ঘটনাস্থল | তেঁতুলিয়া গ্রাম, বড়হর ইউনিয়ন, উল্লাপাড়া। |
| ঘটনার সময় | বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি; বিকেল ৩:৩০ মিনিট। |
| পক্ষসমূহ | বিএনপি সমর্থক বনাম জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। |
| ক্ষয়ক্ষতি | ১টি প্রাইভেট কার ও ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর। |
| প্রশাসনের ভূমিকা | নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপ। |
| বর্তমান পরিস্থিতি | পরিস্থিতি শান্ত ও পুলিশি টহল জোরদার। |
উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপু কর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ভোট চাওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। খবর পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের একটি শক্তিশালী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাঁরা উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওসি আরও জানান, বর্তমানে গ্রামটিতে শান্তি বজায় রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য যে, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে দুই দলেরই শক্তিশালী জনভিত্তি রয়েছে এবং আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উভয় দলই মাঠে সক্রিয় রয়েছে। প্রচারণার শুরুতেই এমন সংঘাতময় পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এক ধরণের ‘মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের’ বহিঃপ্রকাশ।
ভোট মানেই গণতন্ত্রের উৎসব, যেখানে প্রতিটি দল ও প্রার্থীর প্রচারণার অধিকার রয়েছে। তবে সমর্থকদের মধ্যে সহনশীলতার অভাব অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিপত্তি ডেকে আনে। উল্লাপাড়ার তেঁতুলিয়া গ্রামের এই ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ। সাধারণ ভোটাররা আশা করছেন, রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের কর্মীদের সংযত রাখবে এবং প্রশাসন কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করবে।