খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য প্রেরণাদায়ী গান ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি’–এর গায়ক ও সুরকার, একুশে পদকপ্রাপ্ত কণ্ঠযোদ্ধা আপেল মাহমুদ প্রমাণ করলেন তিনি একজন সম্মুখযোদ্ধা ছিলেন। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) এক শুনানিতে তিনি উপস্থাপন করেন যুদ্ধকালীন নথি, সাক্ষ্য ও নিজের অংশগ্রহণের বিবরণ, যা গ্রহণ করে জামুকা নিশ্চিত করেছে—আপেল মাহমুদ একজন বৈধ ও স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা।
সম্প্রতি জামুকায় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, আপেল মাহমুদ মুক্তিযোদ্ধা নন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জামুকা সোমবার (২ জুন) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে শুনানির আয়োজন করে। শুনানিতে আপেল মাহমুদ সরাসরি হাজির হয়ে প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গাওয়ার পাশাপাশি তিনি অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি ৩ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান ও পরে ক্যাপ্টেন নাসিমের অধীনে যুদ্ধ করেছি। আশুগঞ্জ, ভৈরব, হবিগঞ্জসহ নানা স্থানে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আশুগঞ্জের যুদ্ধে বাঁ চোখের পাশে গুলিবিদ্ধ হই। পরে আগরতলায় যাই চিকিৎসার জন্য।”
জামুকার মহাপরিচালক শাহিনা খাতুন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের জানান, “আপেল মাহমুদ কেবল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গেয়েই যুদ্ধকালীন ভূমিকা রাখেননি, তিনি সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন—তিনি কাগজপত্রে তা প্রমাণ করেছেন। তাই তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, এতে কোনো সন্দেহ নেই।”
তবে অভিযোগ উঠেছিল স্বাধীন বাংলা বেতারকর্মী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের পক্ষ থেকে। বিষয়টি উল্লেখ করে আপেল মাহমুদ বলেন, “জীবিত থাকতেই আমাকে নিজের বীরত্ব প্রমাণ করতে হলো। যে অভিযোগ করেছিলেন, তিনি কেন করলেন জানি না। তবে এটি ভিত্তিহীন ছিল, জামুকাও তা বুঝেছে এবং দুঃখ প্রকাশ করেছে।”
শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন আপেল মাহমুদের সহধর্মিণী নাসরিন মাহমুদ, শব্দসৈনিক মনোরঞ্জন ঘোষাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফুল আলম, জাহাঙ্গীর হায়াত খান, সুভাষ সাহা প্রমুখ।
আপেল মাহমুদ শুধু ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে’ নয়, ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর’, ‘নতুন দিনে’সহ আরও বহু প্রেরণাদায়ী গান উপহার দিয়েছেন দেশবাসীকে। সংগীতে অবদানের জন্য তিনি ২০০৫ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। দেশাত্মবোধক গানের পাশাপাশি তিনি রবীন্দ্রসংগীত, লালনগীতি, গণসংগীত ও আধুনিক ধারাতেও অনন্য কণ্ঠের স্বাক্ষর রেখেছেন।
খবরওয়ালা/ এমএজেড