খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে এতদিন সবার এজন্য একটি ফরমেটে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। তবে এখন থেকে প্রবাসী, চাকরিজীবী ও সাধারণ এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। এতে এনআইডি সেবা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন এনআইডি অনুবিভাগের কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢালাওভাবে বিবেচনায় নিলে অনেক ক্ষেত্রে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লেগে যায়। এই ব্যবস্থার ফলে যা সহজ হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি চাকরিজীবীদের সার্ভিস বুক থাকে। তাই তাদের আবেদনের সত্যতা সহজেই যাচাই করা যায়। আবার যারা প্রবাসী তাদেরও সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ কাগজপত্র ও পাসপোর্ট থাকে। এক্ষেত্রে আবেদনের চাহিত তথ্য আপডেট করতে যাচাইয়ের খুব একটা সময়ের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের অনেকের আবেদনেই নানা অসততা থাকে। তাই আবেদনের ধরন প্রথমেই পৃথক করা গেলে নিষ্পত্তিতে সময় কম লাগে।
এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর এ বিষয়ে বলেন, এখন থেকে তিনটি ছকে আবেদনগুলো পৃথক করা হবে। একটি প্রবাসীদের জন্য, অন্যটি চাকরিজীবীদের জন্য। আর একটি ছক হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য।
ইতোমধ্যে সকল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০১১ সালের এক জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন লাখ ৭৮ হাজার এনআইডি সংশোধন আবেদন অনিষ্পন্ন ছিল, এর মধ্যে গত তিন মাসে ক্রাশ প্রোগ্রাম করে ৯৮ হাজার ৪৪টি আবেদন নিষ্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে তিন লাখ দুই হাজার ২৬৬টি, এরমধ্যে নিষ্পন্ন হয়েছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৯২৬টি আবেদন। অবশিষ্ট আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এই হিসেবে ২০১১ থেকে এখন পর্যন্ত চার লাখ দুই হাজার ৩০৮টি আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে সকল অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
বর্তমানে দেশে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ৪৪ লাখের মতো। এদের অনেকের জাতীয় পরিচয়পত্রে কোনো না কোনো ভুল থাকার কারণে প্রতিদিনই আবেদন জমা পড়ছে বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
খবরওয়ালা/এমবি